ফাইল ছবি

গান্ধীনগর: নৈসর্গিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের জন্য পর্যটক মহলে জনপ্রিয় নেপাল৷ সেই নেপালে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন কংগ্রেস নেতা হার্দিক প্যাটেল৷ তবে ঘুরতে নয়, চৌকিদার খুঁজতে৷

দেশে চৌকিদারের প্রয়োজন হলে নেপাল থেকে ‘আমদানি’ করা যেতে পারে৷ তৃতীয় দফার ভোটের দিন এমন মন্তব্য করে বিতর্ক উস্কে দিলেন কংগ্রেস নেতা হার্দিক প্যাটেল৷ তাঁর বক্তব্যের সারমর্ম হল, দেশ প্রধানমন্ত্রী চায়৷ চৌকিদার নয়৷ আর চৌকিদারের প্রয়োজন হলে নেপাল থেকে আনা যাবে৷

গুজরাতের বীরামগামে ভোট দিয়ে বেরনোর পর হার্দিক প্যাটেল বলেন, ‘‘দেশ প্রধানমন্ত্রী চায়৷ এমন এক প্রধানমন্ত্রী যিনি অর্থনীতি, শিক্ষা সব ক্ষেত্রে দেশকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে৷ আমাদের চৌকিদার চাই না৷ আর চৌকিদারের প্রয়োজন হলে নেপাল যাব৷ সেখান থেকে চৌকিদার নিয়ে আসব৷’’ রাজনৈতিক মহলের মতে, ‘চৌকিদার খুঁজতে নেপাল যাব’ মন্তব্যের জন্য বিপাকে পড়তে হতে পারে হার্দিককে৷

পাতিদার সম্প্রদায়ের জন্য শিক্ষা ও চাকরিতে সংরক্ষণের দাবি তুলে প্রচারের আলোয় আসেন হার্দিক প্যাটেল৷ প্রবল বিজেপি বিরোধী হার্দিক ২০১৭ সালে বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসকে সমর্থন জানান৷ তারপর লখনউয়ের এক জনসভায় হার্দিক জানিয়েছিলেন কোনও রাজনৈতিক দলে তিনি যোগ দেবেন৷ তিনি যে কংগ্রেসের প্রতি ঝুঁকবেন তা প্রত্যাশিত ছিল৷ সেই মতো লোকসভা ভোটের আগে কংগ্রেসে যোগ দেন হার্দিক৷

এবার লোকসভা ভোটে প্রার্থী হতে চেয়েছিল হার্দিক প্যাটেল৷ কিন্তু তাঁর লোকসভা ভোটে তাঁর প্রার্থী হওয়ার স্বপ্নে জল ঢেলে দেয় গুজরাত হাইকোর্ট৷ ধর্মীয় গোষ্ঠী সংঘর্ষের মামলার রায়ের উপর স্থগিতাদেশ দিতে অস্বীকার করে আদালত৷ যার নিট ফল সপ্তদশ লোকসভা ভোটে হার্দিকের আর প্রার্থী হওয়া হচ্ছে না৷

২০১৮ সালের জুলাই মাসে গুজরাতের একটি আদালত ধর্মীয় গোষ্ঠী সংঘর্ষের মামলায় হার্দিককে দু’বছরের জেলের সাজা শোনায়৷ পরের মাসে গুজরাত হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়ে যান হার্দিক৷ সেই সময়ের জন্য তাঁর জেলযাত্রা আটকানো গেলেও সাজার উপর কোনও স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়নি৷ আর এখন জনপ্রতিনিধি আইন অনুযায়ী সাজাপ্রাপ্ত কোনও ব্যক্তি ভোটে দাঁড়াতে পারবেন না যতক্ষণ না তাঁর শাস্তির উপর স্থগিতাদেশ জারি হয়৷