নয়াদিল্লি: দেশদ্রোহিতার শিক্ষা বিজেপি শিবির থেকেই পেয়েছেন শত্রুঘ্ন সিনহা। পদ্ম শিবিরের শিক্ষা থেকেই তিনি মহম্মদ আলি জিন্নার প্রশংসা করেছেন। এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন এনসিপি নেতা তথা রাজ্যসভার সাংসদ মাজিদ মেমন।

ভারতের স্বাধীনতা এবং উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রয়েছে পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী মহম্মদ আলি জিন্নার। গত সপ্তাহে এমনই মন্তব্য করেছিলেন বিজেপি ছেড়ে কংগ্রেস যোগ দেওয়া শত্রুঘ্ন সিনহা। তিনি বলেছিলেন, ”সর্দার পটেল থেকে নেহরু, মহাত্মা গান্ধী থেকে জিন্না, ইন্দিরা গান্ধী থেকে রাহুল গান্ধী- দেশের স্বাধীনতা ও উন্নতিতে এদের প্রত্যেকের ভূমিকা রয়েছে। তাই আমি কংগ্রেসে যোগ দিয়েছি।”

বিদায়ী সাংসদ এবং সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের প্রার্থী শত্রুঘ্ন সিনহার এই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়ে যায় তীব্র বিতর্ক। দেশভাগের নায়ক এবং পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যের প্রশংসা করায় কংগ্রেস প্রার্থীকে দেশদ্রোহী বলে তোপ দেগেছিল বিজেপি। এই বিষয়েই মুখ খুলেছেন ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি(এনসিপি)র নেতা মাজিদ মেমন। তিনি বলেছেন, “অমিত শাহের মনে করা উচিত যে গত কাল পর্যন্ত শত্রুঘ্ন সিনহা বিজেপির সঙ্গেই ছিল। যদি উনি দেশদ্রোহী হয়ে থাকেন তাহলে দেশদ্রোহিতার শিক্ষা তিনি বিজেপির থেকেই পেয়েছেন।”

শত্রুঘ সিনহার মতোই জিন্নার প্রশংসা শোনা গিয়েছে মাজিদ মেমনের গলাতেও। অভিনেতা থেকে নেতা হওয়া শত্রুঘ্ন সিনহা বলেছিলেন, “মহাত্মা গান্ধী থেকে মহম্মদ আলি জিন্না সবাই একই পরিবারের সদস্য।” সেই সুর বজায় রেখে এনসিপি নেতা বলেছেন, “ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে মহম্মদ আলি জিন্না বিশেষ ভূমিকা নিয়েছিলেন। কেবলমাত্র মুসলিম হওয়ার কারণেই তাঁর প্রতি বিদ্বেষ দেখানো হচ্ছে। এবং জিন্নার প্রশংসা করায় শত্রুঘ্ন সিনহাকে দেশদ্রোহী বলা হচ্ছে।”

তবে জিন্নার প্রশংসা তিনি ভুল বশত করে ফেলেছিলেন বলে দাবি করেছেন শত্রুঘ্ন সিনহা। বিতর্ক শুরুর ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই ঘুরে গেলেন তিনি। বললেন, এটা ছিল স্লিপ অফ টাং। তিনি বলেন, ”জিন্না নয়, আসলে মৌলানা আজাদের নাম বলতে গিয়েছিলাম। কিন্তু মুখ দিয়ে জিন্নার নাম বেরিয়ে আসে।” তবে জিন্নাকে নিয়ে বক্তব্যে তাঁর কোনও আফশোস নেই। প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ”কীসের আফশোস? আমি যখন ব্যাখ্যা দিয়েই দিলাম যে মুখ ফস্কে বেরিয়ে গিয়েছে। তাহলে আর আফশোস কীসের?”