পুনে: হাওয়া কি হঠাত ঘুরছে? হাত ছাড়ার ভাবনা এনসিপির? প্রশ্ন উঠছে একাধিক৷ কারণ এই সব প্রশ্নের পিছনে একটাই মন্তব্য ভেসে এসেছে৷ ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি প্রধান শরদ পাওয়ারের মুখে আচমকাই উঠে এসেছে আরএসএসের জয়গান৷

সোমবার এনসিপি প্রধান পাওয়ার বলেন আরএসএসের থেকে শেখা উচিত তাঁর দলের কর্মীদের৷ কীভাবে তারা মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ করে৷ কীভাবে মানুষের সঙ্গে মিশে যেতে হয়৷ নির্বাচনের প্রচারে বেরিয়ে যদি আমাদের দলের কর্মীরা দেখে কোনও বাড়ির দরজা বন্ধ, তাহলে তারা সেই বন্ধ দরজার সামনে দলের প্রচারপত্র ছড়িয়ে চলে আসে৷ কিন্তু সেই জায়গায় যদি আরএসএসের কর্মীরা থাকতেন, তাঁরা প্রতিটি বাড়ির দরজা খুলে মানুষের সাথে কথা বলতেন৷

পাওয়ার বলেন যদি একজন আরএসএস কর্মীকে ৫টি বাড়ির দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলে সেই কর্মী প্রতিদিন বাড়িগুলিতে যাবে ও সদস্যদের সাথে কথা বলবে৷ কোনও বাড়ি বন্ধ থাকলে, বিকেলে গিয়ে সেই বাড়ির সদস্যদের সাথে আলাপ করে আসবে৷ এই ধরণের মনোভাব এনসিপির কর্মীদের নেই৷ এই মনোভাবই শেখা উচিত আমাদের৷

আরও পড়ুন : বিমান খুঁজতে সাহায্য করতে পারে মোদীর ‘জ্ঞান’, ব্যঙ্গ ওয়াইসির

তিনি এদিন বলেন এনসিপির সঙ্গে আদর্শগত যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে আরএসএসের৷ তা সত্ত্বেও দলের প্রতি কর্মীদের আনুগত্য, নিষ্ঠা যে কোনও দলের কর্মীদের শেখা উচিত৷ বিশেষত এনসিপির কর্মীদের৷

তবে নির্বাচনের ফল ঘোষণার আগে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গীতেই বিজেপির সমালোচনা করেছিলেন তিনি৷ তিনি বলেন, আগামী লোকসভা ভোটে বিজেপি হয়তো বৃহত্তম দল হতে পারে৷ তবে দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে নরেন্দ্র মোদীকে নাও দেখা যেতে পারে৷

আরও পড়ুন : ‘৪০ শতাংশ মুসলিম ছিল বলেই জয় রাহুলের’, দাবি ওয়াইসির

মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও দুঁদে রাজনীতিক শরদ পাওয়ার বলেছিলেন, ‘‘নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি বিজেপি হয়তো এবার বৃহত্তম দল হবে কিন্তু দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না নরেন্দ্র মোদী৷ কারণ, সরকার গড়তে হলে বিজেপিকে অন্য দলের সমর্থনের দরকার হবে৷ সেক্ষেত্রে মোদীর প্রধানমন্ত্রী হওয়া আটকে যেতে পারে৷’’

লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি পাওয়ার৷ পুনেতে এক কর্মিসভায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়ে ছিলেন এনসিপি সুপ্রিমো৷ রাজনৈতিক মহলের মতে, নাতিকে জায়গা করে দিতে নির্বাচনের ময়দান থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি৷ মহারাষ্ট্রের এই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৯ সাল অবধি লোকসভার সাংসদ ছিলেন৷ ইউপিএ আমলে শরদ পাওয়ারকে খাদ্য ও কৃষিমন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হয়৷ বর্তমানে তিনি রাজ্যসভার সাংসদ৷