নয়াদিল্লি: ব্রাক্ষ্মণ ও সিন্ধি সম্প্রদায়ের মানুষরা সংখ্যালঘু নন৷ তাই তাদের সেই তকমা দেওয়ার পক্ষপাতী নয় ন্যাশনাল কমিশন ফর মাইনরিটি৷ নিজেদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ করার জন্য সংখ্যালঘু তকমা চাইছিল এই দুই সম্প্রদায়৷ কিন্তু এই দাবির বিরোধিতা করেছে ন্যাশনাল কমিশন ফর মাইনরিটি৷

বিশ্ব ব্রাক্ষ্মণ সংস্থা ও পুর্বোত্তর বহুভাষীয় ব্রাক্ষ্মণ মহাসভার দাবি যদি সরকার মেনে নেয়, তাহলে রাজপুত ও বৈশ্যদের দাবিও সরকারকে মানতে হবে বলে সতর্ক করেছে কমিশন৷ তাদের বক্তব্য এরপর অনৈতিকভাবে সবাই সংখ্যালঘু তকমা পাওয়ার দাবি করবে৷ যেটা কোনওভাবেই কাম্য নয়৷

কমিশন আরও বলেছে, বৈদিক ব্রাক্ষ্মণরা হিন্দু ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ অংশ৷ তারা সংখ্যায় কম বলে গোটা হিন্দু সম্প্রদায়কেই সংখ্যালঘু বলা যায়না৷ ২০১৬-১৭ সালের রিপোর্টে এমনই বক্তব্য তুলে ধরেছে কমিশন৷ সংখ্যালঘু তকমা পেলে কোনও ধর্মের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সংরক্ষণে অতিরিক্ত কিছু সুবিধা যুক্ত হবে না বলে মনে করিয়ে দিয়েছে এনসিএম৷

অন্যদিকে, সিন্ধিদের সংখ্যালঘু ঘোষণা করার ক্ষেত্রেও এমকই মত ব্যক্ত করেছে তারা৷ ভাষাগত দিক থেকে সিন্ধিরা সংখ্যালঘু হলেও, ধর্মীয় সংখ্যালঘু যে তাদের বলা যায় না, তা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে ন্যাশনাল কমিশন ফর মাইনরিটি৷ তবে যেহেতু শুধুমাত্র ধর্মগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিষয়টি কমিশনের আওতায় পড়ে, তাই ভাষাগত বিষয়ক সংখ্যালঘু হলেও কমিশন তাদের সেই তকমা দিতে পারবে না৷

এরআগে, ভারতের আটটি রাজ্যে হিন্দুদের সংখ্যালঘু হিসেবে ঘোষণা করতে আবেদন দাখিল করা হয় সুপ্রিম কোর্টে। জনস্বার্থ মামলা দাখিল করেন আইনজীবী অশ্বিনীকুমার উপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ ছিল এই আটটি রাজ্যে হিন্দুদের মৌলিক অধিকার দেওয়া হয় না। ২০১১-র লোকগণনা অনুযায়ী, ভারতের আটটি রাজ্যে হিন্দুরা সংখ্যালঘু৷ ১৯৯৩ সালে কেন্দ্রের দেওয়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ, বৌদ্ধ এবং পার্সিরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ভুক্ত। ২০১৪ সালে জৈনদের এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

প্রসঙ্গত, মিজোরাম, মেঘালয়, নাগাল্যান্ডে খ্রিস্টানরা সংখ্যাগুরু। কিন্তু রাজ্যগুলিতে তাদের সংখ্যালঘু হিসেবেই মর্যাদা দেওয়া হয়। একইভাবে পঞ্জাবে শিখ সম্প্রদায় সংখ্যাগুরু। সেইসঙ্গে একই চিত্র দিল্লি, চণ্ডীগড় এবং হরিয়ানাতেও। কিন্তু সেখানেও তাদের সংখ্যালঘু হিসেবেই গণ্য করা হয়।