নয়াদিল্লি: চমকে দেওয়ার মতোই খবর৷ সম্প্রতি এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে মাওবাদীরা যে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে তোলা তুলত, সেই টাকাই তারা বিনিয়োগ করত রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়৷ এনআইএর বিশেষ শাখা এই তথ্যই জানিয়েছে৷ এই সংক্রান্ত খবর সংগ্রহের জন্যই এই শাখা তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে৷

এনআইএর রিপোর্ট জানাচ্ছে মাওবাদী ছিল এমন ক্যাডার, যার নিজস্ব রিয়েল এস্টেট সংস্থা রয়েছে, সেখানেই টাকা ঢালত মাওবাদীরা৷ তাদের বিনিয়োগ করা টাকা যখন প্রয়োজন পড়তো তুলে নিত তারা৷ এইভাবেই একটা চেন সিস্টেমে টাকা ঘুরত৷

এই টাকা দিয়ে নিজেদের সন্তানদের উচ্চশিক্ষা দিতেও এই টাকা কাজে লাগাত তারা৷ মাওবাদীদের অর্থের উৎস কোথায় তা জানতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকে বিশেষ শাখা তৈরি করা হয়৷ এনআইএ সূত্রের খবর, মাওবাদীরা বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোর করে মোটা টাকা আদায় করত।

এই এনআইএ রিপোর্ট হাতে আসে জি নিউজের৷ সেখান থেকেই জানা যায় বড় বড় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা আসত মাওবাদীদের৷ বা বলা ভাল, তোলা তুলত তারা৷ বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে তাদের জন্য টাকা আসত৷

২০১৬ সালে নভেম্বর মাসে ঝাড়খণ্ড পুলিশের তরফ থেকে দায়ের করা একটি মামলার প্রেক্ষিতে এই তথ্যগুলি সামনে আসে৷

এনআইয়ের রিপোর্টে জানা গিয়েছে, জোর করে আদায় করা এই অর্থ মাওবাদীরা প্রথমে একটি ভুয়ো শেল সংস্থার নামে ব্যাঙ্কে জমা করত। এরপর এই অর্থ স্থানান্তরিত করে অন্য ব্যাঙ্কে মাওবাদী নেতার পরিবারের কোনও সদস্যের অ্যাকাউন্টে জমা পড়৷

এমনকী তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, ঝাড়খণ্ডের সাংসদ রমেশ সিং মুণ্ডার খুনের তদন্তে নেমে এনআইএ জানায়, মাওবাদীরা এই খুনের সঙ্গে জড়িত। শুধু তাই নয়, ২০০৮ সালে তারা একটি টাকা ভর্তি ভ্যানও লুঠ করে। যেখানে ৫ কোটি টাকা সহ সোনার গয়নাও ছিল৷