মুম্বই: আইনি মতে সম্পূর্ণ বিবাহ-বিচ্ছেদ চান অভিনেতা নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী স্ত্রী আলিয়া। লক ডাউন এর মধ্যে ইমেইল এবং হোয়াটসঅ্যাপ মারফত ডিভোর্সের আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন তিনি। জানিয়েছেন বহুদিন ধরেই বৈবাহিক জীবনে খুব সমস্যা হচ্ছিল। প্রথমটায় সমস্যার কারণ খোলসা করে না বললেও পরে মুখ খুলেছেন আলিয়া। নওয়াজের বিরুদ্ধে রয়েছে গুরুতর অভিযোগ।

এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, আলিয়ার উপর নাকি মানসিক অত্যাচার করতেন নওয়াজুদ্দিন সিদ্দিকি। আর সেজন্যই এই বিবাহ বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। আলিয়া এও জানিয়েছেন নওয়াজের সঙ্গে থাকাকালীন নিজের আত্মসম্মান বোধ সম্পূর্ণ ভাবে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল তাঁর।

আলিয়া ও নওয়াজের ১০ বছরের বৈবাহিক জীবন। কিন্তু বিয়ের প্রথম বছর থেকেই নাকি সমস্যা শুরু হয়ে গিয়েছিল। যদিও আলিয়া ভেবেছিলেন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু তা হয়নি। আলিয়া সিদ্দিকির অভিযোগ, সমস্যা বরং দিন দিন বেড়েই গিয়েছে।

আলিয়া জানাচ্ছেন অশান্তি হলে নওয়াজ যেভাবে চিৎকার করতেন তা সহ্য করে নেওয়ার মতো নয়। তবে নওয়াজ কোনদিন তার গায়ে হাত তোলেননি। এছাড়াও নওয়াজের পরিবারের দিকে রয়েছে আরও বড় একটি অভিযোগ। একসময় মুম্বইয়ের বাড়িতে আলিয়া থাকতেন নওয়াজ এবং তার মা দাদা ও বৌদির সঙ্গে। আলিয়া জানিয়েছেন নওয়াজ তাঁর গায়ে হাত না তুললেও নওয়াজের দাদা প্রায়ই তাঁকে মারধর করতেন।

আলিয়া জানিয়েছেন,নওয়াজের পরিবারে এটা আগেও হয়েছে। বাড়ির বউদের উপর তারা নাকি এভাবেই অত্যাচার করে। যার জন্য তাদের পরিবারের উপর রয়েছে সাতটি মামলার দায়। আলিয়ার কথায়, নওয়াজউদ্দিন অভিনেতা হিসেবে বড় মাপের হলেও, মানুষ হিসেবে তা কেন হতে পারেননি! নিজের সন্তানদের সঙ্গে শেষ কবে দেখা করেছেন তাও হয়তো তার মনে নেই। আর তাই সন্তানদেরকে নিজের কাছেই রাখতে চান আলিয়া। আলিয়া বলছেন, “ওদের আমি বড় করেছি। তাই ওরা আমার কাছেই থাকবে।”

আলিয়ার আসল নাম, অঞ্জনা কিশোর পান্ডে। নওয়াজের সঙ্গে বিয়ে করে নাম বদল করতে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু আবার সেই পুরনো নামেই ফিরে যাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। কারণ অন্য কারো পরিচয় নিয়ে আর তিনি বেঁচে থাকতে চান না।

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব