মুম্বই- অভিনেতা নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকির ভাই মিনাজউদ্দিন সিদ্দিকির বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ এনেছেন তাঁদেরই ভাইঝি। এই অভিযোগে জন্য ফের বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেন অভিনেতা নওয়াজ। কিছুদিন আগেই তাঁর স্ত্রী আলিয়া সিদ্দিকি ডিভোর্সের আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন। আর এইবার ভাইঝির অভিযোগে তৈরি হল নতুন বিতর্ক। এই মর্মে দিল্লি পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন কুড়ি বছরের ভাইঝি।

তিনি এখন বিবাহিত। ৯ বছর বয়সে তাঁকে মিনাজউদ্দিন সিদ্দিকি যৌন হেনস্থা করেছিলেন বলে অভিযোগ। ভাইঝি এও বলেছেন তিনি নওয়াজকে নিজের বাবার সমান দেখতেন। কিন্তু তাঁরাও মানসিক ভাবে অত্যাচার করেছে।

বলিউড লাইফ এর কাছে সাক্ষাৎকারে নওয়াজুদ্দিনের ভাইজি জানিয়েছেন, “আসলে মিনাজ তার পরিবারের থেকে সব ব্যাপারে সমর্থন পায়। সে কোনও কাজ করে না, রোজগার করে না। কিন্তু এইসব করতে তাকে কেউ না করে না। আর সব থেকে বেশি সে সমর্থন পায় নওয়াজ বড়ে পাপার থেকে। ওই বাড়িতে সবাই জানতো আমার সঙ্গে কী হচ্ছে। আমি সবাইকে সবটা জানিয়েছিলাম। কিন্তু কেউ একটা শব্দ করেনি।”

নওয়াজের প্রসঙ্গে ভাইজি বলছেন, “আমার মনে হয়েছিল নওয়াজ বড়ে পাপা বুঝবেন। উনি যেমন মানুষদের সঙ্গে মেলামেশা করেন তার থেকেই মনে হয়েছিল। কিন্তু তিনিও আমায় সোজাসুজি বলেন, ‘মিথ্যে কথা বলোনা। আমার ভাই এসব কিছু করতেই পারে না।’ আমার বয়স তখন ১৩। ১৩ বছরের বাচ্চা একটা মেয়ে এসব নিয়ে মিথ্যে বলবে কেন?

নওয়াজ বলেছিলেন, ‘কোন সিনেমা দেখে এই সব গল্প বানাচ্ছ? এইসব হতেই পারে না’।” ভাইঝি জানাচ্ছেন তাঁর কেউ কথা বিশ্বাস না করায় মিনাজউদ্দিন আরো উদ্ধত হয়ে ওঠে। নওয়াজের ভাইঝির কথায়, “আমার যখন ৯ বছর বয়স তখন এসব শুরু হয়। তখন আমি বুঝতাম না এভাবে কেন ও আমাকে স্পর্শ করছে। কিন্তু বড় হয়ে বুঝলাম এটা মোটেই ঠিক না। একবার নয় আমি ওদের বারবার বলেছিলাম। আমার কথা বিশ্বাস করেনি কেউ। আর তাতেই যেন আরো উদ্ধত হয়ে উঠেছিল মিনাজ উদ্দিন। পরে বুঝলাম হয়তো ওরা চায় আমি মিনাজ উদ্দিন এর সমস্ত চাহিদা সম্পূর্ণ করি।”

ভাইঝি বলছেন, ওই বাড়িতে শুধু মিনাজউদ্দিন যৌন হেনস্থা করেছিলেন তাঁকে। কিন্তু এর জন্য সকলে দায়ী ওই পরিবারের। যেহেতু তাঁর মা নেই তাই গোটা পরিবার ভাবতো তাঁকে দিয়ে যা খুশি করানো যায়। এমনই অভিযোগ নওয়াজের ভাইঝির।

ভাইঝির কথায়, “আমার দু বছর বয়স যখন তখনই আমার বাবা-মার ডিভোর্স হয়ে যায়। আমার একজন সৎ মা ছিলেন। আমার উপরে খুব অত্যাচার হয়েছে। ছোটবেলায় বুঝতে পারিনি। ভেবেছিলাম এ তো আমার কাকা। কিন্তু বড় হয় বুঝতে পারি এই স্পর্শের মানে। সেখানে প্রচুর হিংসাও ছিল।” ঘটনা সম্পর্কে নওয়াজের স্ত্রী বলেছেন, এই তো সবে শুরু। এমন অনেক ঘটনাই আস্তে আস্তে প্রকাশ্যে আসবে। ভাইঝি থানায় ঘটনার অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ তদন্ত করছে।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প