কলকাতা: ৪৪তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার ঢাকে কাঠি পড়ে গিয়েছে। বইমেলা শুরু হবে ২৯ জানুয়ারি। চলবে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। পাবলিশার্স এন্ড গিল্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এবারের বইমেলা আরও সুসজ্জিত হবে। তার জন্য এখন থেকেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার বিধাননগর পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন বইমেলা কমিটি। উপস্থিত ছিলেন গিল্ডের সম্পাদক সুধাংসুশেখর দে।

জানা গিয়েছে, এবারের বইমেলায় বিশেষ ভাবে নবনীতা দেবসেনকে স্বরণ করা হবে। প্রয়াত সাহিত্যিকের নামে তৈরি হচ্ছে একটি হল। পাবলিশার্স এন্ড গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক সুধাংশুশেখর দে-র কথায়, নবনীতাদি আমাদের কাছের মানুষ ছিলেন। এবারের বইমেলায় তাঁর নামে একটি হল তৈরি করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বইমেলা সবার উৎসব। তাই একে সুসজ্জিত করে তোলার দায় আমাদের সবার। থাকবে পানীয় জলের ব্যবস্থা। গত বছর কয়েকটি রুটের বাস চলাচল পরিষেবায় ত্রুটির অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল এবার যেন সেসব না থাকে তাঁর দিকেও নজর রাখবে কর্তৃপক্ষ।

এবারের বইমেলার থিম কান্ট্রি হতে চলেছে রাশিয়া। প্রতিবারই বইমেলার থিম কান্ট্রির দিকে আলাদা নজর থাকে মনোযোগী পাঠকদের। ফি বছর কলকাতা বইমেলায় একটি দেশের সাহিত্যকে ফোকাস করা হয়। গত বারের বইমেলার থিম কান্ট্রি ছিল গুয়েতেমালা। থিম প্যাভিলিয়নে তুলে ধরা হয়েছিল গুয়াতেমালার সংস্কৃতির নানান চিহ্ন। সেখানকার তৈরি শুকনো মিষ্টিও বিক্রি হয়েছে গুয়াতেমালা থিম কান্ট্রি প্যাভিলিয়নে।

মেলার উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিবারের মতো এবারও বইমেলায় অংশ নেবে বাংলার পাশাপাশি জাতীয় স্তরের নানা প্রকাশনা। বইমেলায় বিশেষ ভাবে উদযাপন করা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের দ্বিশতবার্ষিকী। এর আগে বইমেলা অনুষ্ঠিত হত সাইন্স সিটির বিপরীত দিকে মিলন মেলা প্রাঙ্গণে। কিন্তু, দিল্লির প্রগতি ময়দানের মতো সাজিয়ে তোলা হচ্ছে মিলন মেলা প্রাঙ্গণ। সেখানে কাজ চলার কারণে কলকাতা বইমেলা কিছুদিনের জন্য স্থানান্তরিত করা হয় সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কে। এ ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহায্যের কথা স্বীকার করেন সুধাংশুশেখর দে।

গত দু’বছর বিধাননগরে বইমেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর প্রকাশকরা লাভের মুখ দেখেছেন, খুশি পাঠকরাও। বইমেলা প্রাঙ্গণের পাশেই রয়েছে করুণাময়ী বাসস্ট্যান্ড। এছাড়া অটোতে খুব সহজেই পৌঁছানো যায় উল্টোডাঙা স্টেশনে। অটো চালকদের কাছে ভাল পরিষেবা দেবার জন্য অনুরোধ করেছেন সুধাংশুবাবু।