মুম্বই : নবি মুম্বইয়ে কড়া সতর্কতা জারি করল পুলিশ৷ মঙ্গলবার নবি মুম্বইয়ের উরান এলাকায় একটি ব্রিজের পিলারে আইএস জঙ্গিদের বার্তা লেখা উদ্ধার হয়৷ রায়গড় জেলার উরানের খোপটে ব্রিজের পিলারে এই বার্তা লেখা ছিল বলে পুলিশ সূত্রে খবর৷ কে বা কারা ওই বার্তা লিখে রেখে গিয়েছে, তা বুঝতে পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা৷

পুলিশ খবর দেওয়া হলে নবি মুম্বইয়ের ক্রাইম ব্রাঞ্চের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান৷ এই বার্তাগুলিকেই কোনওভাবেই অবহেলা করা হচ্ছে না বলে জানান তাঁরা৷ ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে পিলারে লেখা বার্তাগুলিকে খুঁটিয়ে দেখে৷ উল্লেখ্য ওএনজিসির দফতর, তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জেএনপিটি এই উরান এলাকার কাছাকাছিই অবস্থিত৷

ফলে এই হুমকি বার্তাগুলিকে বেশ গুরুত্ব দিচ্ছে পুলিশ৷ নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে গোটা এলাকায়৷ টহলদারি শুরু হয়েছে৷ এদিকে, যে বার্তা পিলারের গায়ে লেখা হয়েছে তাতে আইএসের হয়ে কাজ করা ও প্রাণ দেওয়া যুবকদের প্রশংসা করা হয়েছে৷

পিলারের বার্তায় লেখা রয়েছে আইএস প্রধান আবু বকর আল বাগদাদির নামও৷ রয়েছে আইএসের অন্যান্য মাথাদের নাম৷ এমনকী নাম রয়েছে হাফিজ সইদেরও৷ আরেকটি বার্তায় রয়েছে কিছু নাম ও রকেটের ছবি আঁকা৷ পুলিশ জানিয়েছে গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে৷ খতিয়ে দেখা হচ্ছে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ৷ যাতে এই ব্রিজের ওপর দিয়ে চলাচলকারী কোনও সন্দেহভাজনের ছবি ধরা পড়ে৷

তবে আরেকটি তত্ব্ও উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ৷ আধিকারিকদের ধারণা স্থানীয় যুবকরা এই বার্তা লিখে মজা করতে পারে৷ স্থানীয় বাসিন্দাদের এই ইস্যুতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে৷ কাউকে পিলারের গায়ে কিছু লিখতে কেউ দেখেছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷

এরই মধ্যে মহারাষ্ট্রের সন্ত্রাসদমন শাখার আধিকারিকরা বিষয়টির তদন্ত শুরু করেছেন৷ নবি মুম্বইয়ের ক্রাইম ব্র্যাঞ্চের আধিকারিকদের সঙ্গে যৌথভাবে তদন্ত করছেন তাঁরা৷ এদিকে, শ্রীলঙ্কা থেকে জলপথে ভারতে ঢুকতে চলেছে আইএস জঙ্গিরা, এমনই খবর দিয়েছিল গোয়েন্দা সংস্থাগুলি৷

রিপোর্টে বলা হয়েছিল, শ্রীলঙ্কা থেকে আইএস জঙ্গিরা নৌকা করে লাক্ষাদ্বীপ উপকূলের দিকে রওনা দিয়েছে৷ সেখান থেকে দেশের অন্যত্র আস্তানা গড়বে৷ তারপরেই উপকূলবর্তী এলাকা বিশেষ করে কেরল উপকূলে হাই অ্যালার্ট জারি হয়েছে৷ উপকূলবর্তী সমস্ত থানা ও উপকূলরক্ষী বাহিনীকে আরও সজাগ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়৷

এদিকে, এনআইএর রিপোর্ট বলছে ইতিমধ্যে গত ছয় বছরে ১০৫ জন আইএস জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷ এই ইস্যুতে ২৬টি মামলা চলছে দেশের বিভিন্ন আদালতে৷ জানা গিয়েছে, ১৪ জন আইএস জঙ্গির একটি দল এই মুহূর্তে আফগানিস্তানে রয়েছে৷ ২০১৬ সালের মে থেকে জুলাই মাসের মধ্যে এরা দেশ ছাড়ে৷ আশ্রয় নেয় কাবুলে৷ এরা প্রত্যেকেই আদতে কেরালার বাসিন্দা৷