ভুবনেশ্বর: করোনা মহামারীতে বিধস্ত দেশ। অব্যাহত মৃত্যু মিছিল। দিন যতই যাচ্ছে ততই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। এই অবস্থায় এবছর আষাঢ়ে মাসে পুরিতে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে কিনা তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ঘোর সংশয়। যেভাবে দিকে দিকে করোনা সংক্রামিত রোগীর সংখ্যা বেড়ে চলছে, তাতে এত সহজে নিস্তার নেই মারণ এই অদৃশ্য ভাইরাসের কবল থেকে। যারফলে এবছর রথযাত্রার অনুষ্ঠান নিয়ে চিন্তিত ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে দেশজুড়ে চলছে লকডাউন।

লকডাউনের একমাস পূর্ন হয়ে গেলেও আগামী ৩মে’র পরে লকডাউন তুলে নেওয়া হবে কিনা সেই বিষয়ে এখনও পর‍্যন্ত কোনও স্পষ্ট বার্তা পাওয়া যায়নি কেন্দ্রের তরফে। আর এই অবস্থায়, শুক্রবার সকালে ওড়িশার করোনা পরিস্থিতির কথা জানিয়ে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন প্রতিবেশী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক। এদিন তিনি মোদীকে তাঁর রাজ্যের করোনা পরিস্থিতির কথা জানানোর পাশাপাশি আসন্ন, পুরির জনপ্রিয় রথযাত্রা নিয়েও কথা হয়। যদিও, এবছর পুরিতে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা পালিত হবে কিনা সেই বিষয়ে এখনও প্রধানমন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রীর তরফে স্পষ্টভাবে কিছুই জানানো হয়নি।

তবে পুরির এই সর্বকালের জনপ্রিয় রথযাত্রা এবছর স্থগিত থাকুক সেই বিষয়ে একমত ওড়িশার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলি। কারন, এবছর রথের অনুষ্ঠান পড়েছে জুন মাসের ২৩তারিখ। মাত্র দুমাস বাদে এই অনুষ্ঠান হলেও সেইসময় গোটা দেশের পরিস্থিতি কোন দিকে দাঁড়াবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। ফলে সেই সময় রথযাত্রা করলে মানুষের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা,অসম্ভব। কারন, প্রতিবছর এই রথযাত্রা উপলক্ষ্যে পুরিতে প্রায় ১০লাখেরও বেশি ভক্তের সমাগম হয়।

ফলে তখন সকলের মধ্যে ব্যবধান রেখে চলা সত্যিই দুষ্কর। এদিকে ওড়িশার বিরোধী রাজনৈতিক দল কংগ্রেস, বিজেপিও সরকারের কাছে এবছর রথযাত্রার অনুষ্ঠান বাতিল করে দেওয়ার পক্ষেই সওয়াল করেছে। এদিকে রথের আগে জগন্নাথদেবের স্নানের অনুষ্ঠান পালিত হয় পুরিতে।

যদিও সেই অনুষ্ঠান বাতিল করে দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রে জানা গিয়েছে। নমো নমো করে ছোট করেই শুধুমাত্রা আচার পালন করা হবে বলে জানাচ্ছে এক সংবাদমাধ্যম। এদিকে গত ২২মার্চ থেকেই জনসাধারণের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে পুরির জগন্নাথদেব মন্দিরের দরজা। শুধুমাএ মন্দিরের পুরোহিত দিয়েই পুজো করা হছে।

শুধু তাইনয়, শুক্রবার সকালে মন্দিরের ম্যানেজিং কমিটির সঙ্গেও বৈঠকে বসেন শংকরাচার্য রামচন্দ্র দশমহাপাত্র। যিনি ওই কমিটির প্রধান। যদিও জুন মাসে রথের অনুষ্ঠান হবে কিনা সেই বিষয়ে এখনও কিছু জানা যায়নি। প্রসঙ্গ, করোনার কালো ছায়া গ্রাস করেছে নবীন পট্টনায়কের রাজ্যকেও।

যদিও আক্রান্তের সংখ্যা খুব একটা ঊর্ধ্বমুখী নয় সে রাজ্যে। এখনও পর‍্যন্ত গোটা ওড়িশা জুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৯০। তাদের মধ্যে সম্পূর্ন সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৩৩ জন। এখনও পর‍্যন্ত কোনও মৃত্যুর খবর নেই ওড়িশায়।

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব