কলকাতা : উৎসবপ্রিয় বাঙালি উৎসবে মাতবে না তা কি হয়। ষষ্ঠী,সপ্তমীতে গ্রামীণ হাওড়া থেকে শহর কলকাতা বিভিন্ন মন্ডপে, রাস্তায় সেভাবে ভিড় দেখা না গেলেও অষ্টমীতে মানুষের ঢল নামতে দেখা যায়। ফলে নবমীতে যখন পুজো শেষের পালা তখন ফের ভিড়ের আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। হাইকোর্টের আদেশ চিকিৎসকদের সাবধানবানী সবই যেন হঠাৎ উধাও। পুজো নয় উৎসব করতেই ব্যাস্ত মানুষ।

পরিবার, বন্ধুবান্ধবকে নিয়ে বহু মানুষকেই এদিন সন্ধ্যায় বাগনান,উলুবেড়িয়া,আমতার পাশাপাশি বিভিন্ন গ্রামেও প্রতিমা দর্শনে বেরোতে দেখা গেছে। কিছু মানুষের মুখে মাস্কের দেখা মিললেও অনেকের মুখেই মাস্কের দেখা মেকেনি। আর পারস্পরিক দূরত্ব তো দূরস্থ। এব্যাপারে অবশ্য বেশ সচেতন পুজো কমিটিগুলি। শুধু মাইক প্রচার করে,স্যানিটাইজিং টানেল বসিয়ে কিমবা ফ্লেক্স লাগিয়ে ক্ষান্ত হয়নি পুজো কমিটি গুলি। মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে মন্ডপে যেমন প্রবেশ নিষেধ করেছে পুজো কমিটিগুলি তেমনই মাস্কবিহীন মানুষকে মাস্ক তুলে দিচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবকরা। পুজো দেখতে বেরোনা মানুষের বক্তব্য, দীর্ঘদিন বাড়িতে মহিলা- কচিকাচারা বসে বিরক্ত হয়ে যাচ্ছে। তাই সবরকম সুরক্ষা বিধি মেনেই আশপাশে কিছুক্ষণের জন্য ঘুরতে বেরানো। আবার অনেকের বক্তব্য, এবার তো আর কোলকাতায় ঠাকুর দেখতে যাওয়া সম্ভব হচ্ছেনা তাই স্থানীয় এলাকাতেই ঘুরে বেড়ানো। তবে অষ্টমীর সন্ধ্যায় যেভাবে মাস্ক ছাড়াই মানুষের ঢল চোখে পড়েছে গ্রামীণ হাওড়ার বিভিন্ন এলাকায় তা করোনার আশঙ্কা অনেকটাই যে বাড়িয়ে দেবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা বলেই ওয়াকিবহাল মহলের মত।

এদিকে রাজ্যে প্রত্যেকদিন চার হাজারে্র কাছাকাছি মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। দু’দিন মেনেও বাঁধ ভাঙল অষ্টমীতে। একই ছবি দেখা গিয়েছে উত্তরের বাগবাজার থেকে শুরু কর দক্ষিণের একডালিয়া এভারগ্রিন পর্যন্ত। শনিবার পশ্চিমবঙ্গে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৮৬৫ জন। এবং সুস্থ হয়েছেন ৩১৮৩ জন। শনিবার রাজ্যে সুস্থতার হার ছিল ৮৭.‌৬৬ শতাংশ। যেখানে শুক্রবার তা ছিল কিছুটা বেশি— ৮৭.‌৭৩ শতাংশ।

ওইদিনের হিসেব অনুযায়ী রাজ্য করোনা আক্রান্ত মোট ৬১ জনের মৃত্যু হয়। তার মধ্যে ১৫ জন উত্তর ২৪ পরগনার আর ১৫ জন কলকাতার বাসিন্দা। এদিনও নতুন করোনা আক্রান্ত ও সুস্থতার দিক থেকে এগিয়ে কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনা। এদিন কলকাতার ৭৮৪ জন নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন আর সুস্থ হয়েছেন ৬০৮ জন। আর উত্তর ২৪ পরগনায় গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ৭৯২ জন আর সুস্থ হয়েছেন ৬১৭ জন।

শনিবার রাজ্যে অ্যাকটিভ কেসের সংখ্যা ৩৩ হাজার ১২১। এদিন মোট ৪৩ হাজার ৪২৮টি নমুনা করোনার জন্য পরীক্ষা করা হয়। তার মধ্যে ৮.‌০৩ শতাংশ পজিটিভ এসেছে। শনিবার প্রকাশিত রাজ্যের স্বাস্থ্য বুলেটিন অনুযায়ী রাজ্যে রয়েছে মোট ১২ হাজার ৭৫১টি কোভিড বেড। তার মধ্যে ৩৭.‌৮২ শতাংশ বেডে বর্তমানে করোনা রোগী চিকিৎসাধীন।

জেলবন্দি তথাকথিত অপরাধীদের আলোর জগতে ফিরিয়ে এনে নজির স্থাপন করেছেন। মুখোমুখি নৃত্যশিল্পী অলোকানন্দা রায়।