বেঙ্গালুরু: মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আইএনএস বিক্রমাদিত্যে৷ আগুন লেগে মৃত্যু হল এক নৌসেনা অফিসারের৷ শুক্রবার সকালে কর্ণাটকের কারওয়ারে এই দুর্ঘটনা ঘটে৷ লেফটেন্যান্ট কমাণ্ডার ডি এস চৌহান আইএনএস বিক্রমাদিত্যেই ছিলেন৷ তখনই আগুন আচমকা ছড়িয়ে পড়ে৷

নৌসেনা সূত্রে খবর, দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা গেলেও, ওই অফিসার নিজের জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন৷ অতিরিক্ত ধোঁয়া ও তাপে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি৷ সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে কারওয়ারের নৌসেনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷ তবে ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে৷ হাসপাতালেই মারা যান তিনি৷ কিন্তু কীভাবে আগুন লাগল? তা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে৷

২০১৬ সালেও আইএনএস বিক্রমাদিত্যে গ্যাস লিকের কারণে প্রাণ হারান দুই ব্যক্তি। একইসঙ্গে ওই ঘটনায় জখম হন আরও দুই ব্যক্তি। মৃতদের মধ্যে একজন নাবিক। ঘটনাটি ঘটে করণ্টক উপকূলের কাছে কারওয়ার্ড এলাকায়।

ভারতীয় নৌসেনা সূত্রে জানানো হয় যে মৃত নাবিকের নাম রাকেশ কুমার এবং অপরজন মোহন দাস কোলাম্বকর। আহত দুই ব্যক্তির অবস্থা এখন অনেকটা স্থিতিশীল বলে জানা যায় সেনা সূত্রে। সমগ্র ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয় বলে নৌসেনার তরফ থেকে একটি বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়৷

এর আগে, একগুচ্ছ এয়ারক্রাফট নিয়ে আরব সাগরের জলসীমানায় মোতায়েন করা হয়েছিল ভারতের এয়ারক্রাফট কেরিয়ার আইএনএস বিক্রমাদিত্য। কোস্ট গার্ডের ভেসেল সহ অন্তত ৬০টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করে ভারত। পাকিস্তান যাতে জলপথে এক পাও না এগোতে পারে, সেই জন্যই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন : ‘‘কত বড় হনু তুমি’’, বাবুলকে জবাব মমতার

সম্প্রতি ভারতীয় নৌবাহিনীর তরফ থেকে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। সংবাদসংস্থা এএনআই জানায়, ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা যখন চরমে পৌঁছেছিল, তখন পুরো রণসজ্জা নিয়ে এগিয়ে গিয়েছিল ভারত।

আইএনএস বিক্রমাদিত্যের সঙ্গে ছুটে গিয়েছিল একাধিক যুদ্ধজাহাজ, নিউক্লিয়ার সাবমেরিন। সেখানে মোতায়েন করা হয়েছিল নৌবাহিনীর ৬০টি জাহাজ, কোস্ট গার্ডের ১২টি জাহাজ ও ৬০ টি এয়ারক্রাফট। দেশের তিনদিকেই জলভাগে কড়া পাহারা দিতে শুরু করেছিল নৌসেনা। পাকিস্তান যাতে মাকরান উপকূলের বাইরে কোনোভাবেই বেরতে না পারে, সেদিকে রাখা হয়েছিল কড়া নজর।