আলিপুরদুয়ার: ব্রাত্য বসু মন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের বন বিভাগে একাধিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গিয়েছে। সম্প্রতি বন দফতরের উদ্যোগে ভ্রমণের জন্য নানান রকম কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ভ্রমণ যে আসলে এক ধরনের প্রকৃতিপাঠ বা আমাদের শিক্ষারই অঙ্গ– সাধারণ মানুষের কাছে সে বার্তা পৌঁছে দিতে সচেতন হয়েছে বন দফতর। এই মর্মে ডুয়ার্সের জলদাপাড়ায় গড়ে উঠছে নতুন প্রকৃতিশিবির।

পর্যটকদের উদ্দেশ্যে বন দফতরের বার্তা– ভ্রমণ মানে কেবলই বনে জঙ্গলে ঘুরে বেড়ানো নয়, ভ্রমণের মধ্যে দিয়ে আমাদের এবার থেকে নিতে হবে প্রকৃতির শিক্ষা। গাছ সম্পর্কে জানা, পাখি সম্পর্কে জানা, সর্বোপরি ভূ-প্রকৃতি সম্পর্কে আমাদের ওয়াকিবহাল করার উদ্দেশ্যেই বন দফতর এই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা যায়। সেই অনুয়াযী পর্যটনের ক্ষেত্রে কিছু কিছু পরিবর্তনও আনা হয়েছে।

কোদাল বস্তি থেকে চিলাপাতা পর্যন্ত জঙ্গল সাফারির জন্যে আগে খরচ ছিল ১১০০ টাকা। তা বেড়ে এবার ১২০০ টাকা হল। ভ্রমণ গাইডের জন্য আগে খরচ পড়ত ২৫০ টাকা। এবার তা বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করা হয়েছে। টোটোপাড়া সম্পর্কে নানা জনের আগ্রহ থাকলেও এই অঞ্চলটি পর্যটন এলাকার অন্তর্ভুক্ত ছিল না এতদিন। এবার সেই টোটোপাড়াকে পর্যটন এলাকার আওতায় আনা হল। টোটোপাড়ার সাধারণ মানুষের জীবনযাপনের ওপর ইতিমধ্যেই গবেষণা করেছেন একাধিক গবেষক।

সারা ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখানে ছুটে আসেন বহু মানুষ, নানা তথ্য জানার তাগিদে। এবার থেকে টোটপাড়া, জলদাপাড়া ভ্রমণের ক্ষেত্রে পর্যটন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হবে। এই খবরে স্বাভাবিক ভাবেই খুশি নানা মহল। এই উদ্যোগকে কুর্নিশ জানিয়েছে স্থানীয় মানুষেরা। জানা গিয়েছে, ডুয়ার্সের বিখ্যাত লোকনৃত্য এবং গান-বাজনাও জলদাপাড়া প্যাকেজ ট্যুর-এর আওতায় আনা হবে। আগামী দিনে এ সবের মধ্যে দিয়েই ভ্রমণকারীরা প্রকৃতির পাঠ নিবিড় ভাবে নিতে পারবেন বলে মনে করছেন পর্যটকরা।