লোকসভার পর রাজ্যসভাতেও পাস কৃষি বিল, প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ বিরোধীদের
লোকসভার পর রাজ্যসভাতেও পাস কৃষি বিল, প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ বিরোধীদের

নয়াদিল্লি : বিরোধীদের তুমুল হইচইয়ের মধ্যেই রবিবার রাজ্যসভায় পাস হয়ে গিয়েছে কৃষি বিল। কৃষি বিল নিয়ে তুমুল আপত্তি ছিল বিরোধীদের। এবার সংসদের বাইরে আছড়ে পড়ল সেই বিক্ষোভের ঝড়। ২৫শে সেপ্টেম্বর দেশ জুড়ে প্রতিবাদ আন্দোলনে নামতে চলেছে ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়ন।

সোমবারই এই প্রতিবাদ আন্দোলনের ঘোষণা করে ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়ন। তারা জানিয়েছে গোটা দেশেই কৃষি বিলের বিরোধিতায় আন্দোলনে নামা হবে। পঞ্জাব ও হরিয়ানায় ইতিমধ্যেই বিক্ষোভ শুরু হয়ে গিয়েছে। ১৪ই সেপ্টেম্বর, যেদিন লোকসভায় বিল পেশ করা হল, সেদিন থেকেই বিক্ষোভ শুরু হয়েছে এই দুই রাজ্যে।

দিন কয়েক ধরেই কৃষি বিল নিয়ে পঞ্জাব, হরিয়ানা-সহ দেশের একাধিক রাজ্যে কৃষকরা প্রতিবাদ শুরু করেছেন। এরই মধ্যে রবিবার তুমুল হট্টগোলের আবহে রাজ্যসভায় ধ্বনিভোটের মাধ্যমে পাস হয়েছে কৃষি বিল।

শুরু থেকেই এই বিল নিয়ে তীব্র আপত্তি ছিল বিরোধী একাধিক রাজনৈতিক দলগুলির। সেই সব আপত্তি অগ্রাহ্য করেই সংসদের দুই কক্ষেই কৃষি বিল পাস করিয়ে নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

বিলে রাষ্ট্রপতির সই হয়ে গেলে সেটি আইনে পরিণত হওয়া এখন সময়ের অপেক্ষা। সোমবার উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ আন্দোলন করে ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়ন। এই সংগঠনের মুখপাত্র সি এইচ রাকেশ টিকাইত জানান, কেন্দ্র সরকার স্বেচ্ছাচারীতা করছে।

এই ধরণের বিল এনে কৃষকদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে কেন্দ্র। এই ধরণের দুর্ভাগ্যজনক বিল দেশের সংসদে পাশ হওয়াটা বিপদের ইঙ্গিত দেয়। কোনও আলোচনা বা কোনও প্রশ্ন ছাড়াই এই বিল পাশ হয়ে গেল, যা দেশের গণতন্ত্রের পক্ষে ক্ষতিকারক বলেই উল্লেখ করেছেন টিকাইত।

তিনি এদিন বলেন গণতন্ত্রের জন্য এটি একটি কালো দিন। যদি দেশের সাংসদদেরই বিতর্কিত বিল নিয়ে প্রশ্ন করার অধিকার না থাকে তবে গণতন্ত্রের মৃত্যু হয়েছে বলেই ধরে নিতে হবে। তাহলে ৯০০ কোটি টাকা খরচ করে নতুন সংসদ ভবন তৈরি করারও কোনও অর্থ হয় না।

সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়ন যে প্রতিবাদ আন্দোলনের ডাক দিয়েছে, তাকে সমর্থন জানিয়েছে দশটি শ্রমিক সংগঠন। এগুলি হল এনটিইউসি, এআইটিইউসি, এইচএমএস, সিটু, এআইইউটিইউসি, টিইউসিসি, এসইডব্লুএ, এআইসিসিটিইউ, এলপিএফ এবং ইউটিইউসি।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।