স্টাফ রিপোর্টার, শান্তিপুর: কলেজের নবীন বরণের অনুষ্ঠানে গাওয়া হল জাতীয় সঙ্গীত। আয়োজকদের একটা বড় অংশ সবাই মঞ্চে দাঁড়িয়ে গলা মেলালেন। আর তাতেই ঘটল বিপত্তি।

চলতি মাসের চার তারিখে নদীয়া জেলার শান্তিপুর কলেজের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের নবীন বরণ উৎসব ছিল। মঞ্চে বিশাল ফ্লেক্সে উজ্জ্বল করে স্থান দেওয়া হয়েছিল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি।

আরও পড়ুন- প্রেক্ষাগৃহে জাতীয় সংগীত চলাকালীন সেক্স করুন: SFI

সেই অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত গাওয়া হয়। এবং জাতীওয় সঙ্গীতের শেষের দিকে ‘যমুনা’র জায়গায় ‘হিমালয়’ গাওয়া হয়। বর্তমানে স্মার্ট ফোনের জমানায় সকলেই প্রায় সব মুহূর্ত মোবাইল ক্যামেরায় বন্দি করে রাখতে অভ্যস্ত। শান্তিপুর কলেজের পড়ুয়াদের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

সেই জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার মুহূর্তটিও ক্যামেরাবন্দি হয়েছিল। সেখানেই দেখা ধরা পরেছে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার ত্রুটি। সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে সেই ভিডিও এখন রীতিমতো ভাইরাল। সম্পূর্ণ জাতীয় সঙ্গীতের ভিডিও নয়, শেষের ১৮ সেকেন্ডের ভিডিও টুকুই ছড়িয়েছে ডিজিটাল দুনিয়ায়। ভিডিও-তে মঞ্চে থাকা কারও মুখ স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে না। এই ভিডিও-র সত্যতা Kolkata24x7 যাচাই করেনি।

কলেজের পড়ুয়াদের দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে শান্তিপুর কলেজের ছাত্র সংসদ বা কলেজের কোনও ছাত্রছাত্রী জড়িত নয়। যে গান গেয়েছিল সেই অনুষ্ঠানের শেষে জাতীয় সংগীত গায়। তারই ভুল হয়েছে। নবীন বরণ উৎসবে ভাড়া করে নিয়ে আসা সেই গায়কের গানও ভালো হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন অনেক পড়ুয়া।

বিধায়ক অরিন্দম ভট্টাচার্য

ওই অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন শান্তিপুরের বিধায়ক অরিন্দম ভট্টাচার্য। অনুষ্ঠানের সূচনায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয় অতীতের মতনই বর্তমানে শান্তিপুর কলেজ সকলের সম্মিলনে সংহত ও ঐক্যবদ্ধ। এই মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় পন্ডিত লক্ষীকান্ত মৈত্র এবং সংখ্যালঘু মহীয়সী এক নারীর মতন যাঁরা সেই সময়ে এগিয়ে এসেছিলেন তাঁদের সম্মান জানতে হবে। তাঁরা শান্তিপুরের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে যে স্বপ্ন দেখে ছিলেন সেই স্বপ্ন আপনাদের পূরণ করতে হবে। আপনারা আপনাদের ভিতরের সেরা টুকু উজাড় করে নিজেদের সমৃদ্ধ করার সঙ্গে সঙ্গে পরিবার, সমাজ এবং এই কলেজের প্রতিষ্ঠাতাদের স্বপ্নপূরণ করবেন।আগামী প্রজন্মের কাছে দৃষ্টান্ত হবেন আপনারা, আমার দৃঢ় বিশ্বাস।”

এই ভিডিও এবং জাতীয় সঙ্গীত বিকৃতের সঙ্গে তাঁর কোনও যোগ নেই বলে দাবি করেছেন অরিন্দমবাবু। তাঁর কথায়, “আমি সকালের দিকে খুব অল্প সময়ের জন্য শান্তিপুর কলেজে গিয়েছিলাম অতিথি হিসেবে। অনুষ্ঠানের সঙ্গে আমার কোনও যোগ নেই। আমি থাকাকালীন জাতীয় সঙ্গীত গাওয়াও হয়নি।”

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প