মুম্বই: দেখতে দেখতে সাতটি বছর পেরিয়ে গিয়েছে৷ কিন্তু ক্ষত এখনও শুকোয়নি৷ আজও ২৬ নভেম্বরের সেই রাত দুঃস্বপ্নের মতো তাড়া করে মুম্বইবাসীকে৷ যে রাত কেড়ে নিয়েছিল ১৬৬ জনের প্রাণ৷ পাক জঙ্গিদের গুলিতে রক্তাক্ত হয়েছিল বাণিজ্যনগরী৷ ২৬/১১-র সেই শহিদদের উদ্দেশ্যে আজ শ্রদ্ধা জানাল মহারাষ্ট্র সরকার ও মুম্বই পুলিশ৷

মুম্বই হামলায় শহিদ হয়েছিলেন মহারাষ্ট্র সন্ত্রাস দমন শাখার (এটিএস) প্রধান হেমন্ত কারকারে, মেজর সন্দীপ উন্নিকৃষ্ণন, মুম্বইয়ের অ্যাডিশনাল পুলিশ কমিশনার অশোক কামতে এবং সিনিয়র পুলিশ ইন্সপেক্টর বিজয় সালাসকরের৷ এদিন সকাল আটটায় শুরু হয় শ্রদ্ধাজ্ঞাপন অনুষ্ঠান৷ উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ সহ অন্যান্য মন্ত্রীরা৷ মেরিন ড্রাইভে পুলিশ জিমখানায় ২৬/১১-র শহিদ জওয়ানদের শ্রদ্ধা জানান মুম্বইয়ের পুলিশ কমিশনার আহমেদ জাভেদ৷  

২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর৷ আরব সাগর দিয়ে বাণিজ্যনগরীতে ঢুকে পড়েছিল দশ সশস্ত্র লস্কর জঙ্গি৷গোটা শহরকে ঘিরে ফেলে শুরু হয় তাদের তাণ্ডব৷ কালাশনিকভ হাতে মুম্বই শহরে দাপিয়ে বেড়ায় আজমল কাসব সহ দশ লস্কর জঙ্গি৷ এলোপাথাড়ি গুলি আর বিস্ফোরণে ১৮ জন নিরাপত্তাকর্মী সহ মৃত্যু হয় ১৬৬ জন নিরীহ মানুষের৷ ক্ষতি হয় কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি৷ এক জায়গায় গুলির খবর আসতে আসতেই অন্য জায়গায় শুরু হয়ে যায় বিস্ফোরণ৷ মুহূর্তে বদলে যায় গোটা শহরের ছবি৷আতঙ্ক দানা বাঁধে মুম্বইয়ের বুকে৷

২৬ তারিখ রাত থেকে শুরু করে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত চলেছিল সংঘর্ষ৷ ছত্রপতি শিবাজি টার্মিনাস, ওবেরয় ট্রাইডেন্ট, তাজ মহল প্যালেস অ্যান্ড টাওয়ার, লিওপোল্ড ক্যাফে,  কামা হাসপাতাল, নরিম্যান হাউস, ইহুদি কমিউনিটি সেন্টার, মেট্রো অ্যাডল্যাবস এবং টাইমস অফ ইন্ডিয়া ভবন ও সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের পিছনের একটি গলিতে হামলা চালায় পাক জঙ্গিরা৷ মুম্বইয়ের বন্দর এলাকার মাজাগাঁও ও ভিলে পার্লের একটি ট্যাক্সির মধ্যেও বিস্ফোরণ ঘটানো হয়৷ ২৮ নভেম্বর সকালের মধ্যেই মুম্বই পুলিশ ও অন্যান্য রক্ষীবাহিনী তাজ হোটেল সহ বাকি জায়গাগুলি জঙ্গি মুক্ত করে ফেলে৷ পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নয় জঙ্গির মৃত্যু হলেও, একমাত্র জীবিত ধরা পড়ে আজমল কাসব৷ ২০১২ সালের ২১ নভেম্বর ফাঁসি দেওয়া হয় তাকে৷