নয়াদিল্লি: লকডাউন বর্ধিত হবে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছেই। এরই মধ্যে দেশের পরিস্থিতিকে ‘জরুরি অবস্থা’ বলে বর্ণনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

বুধবারই প্রধানমন্ত্রী মোটামুটিভাবে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ১৪ এপ্রিল শেষ হচ্ছে না লকডাউন। সর্বদলীয় বৈঠকে তিনি বলেছেন, দেশে জরুরি অবস্থা তৈরি হয়েছে। তার জন্য আরও কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে সরকারকে।

‘টাইমস অফ ইন্ডিয়া’য় প্রকাশিত হয়েছে বুধবারের সর্বদলীয় বৈঠক থেকে লিক হয়ে যাওয়া একটি অডিও ক্লিপ। সেখানে মোদী বলছেন, ”আমি মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলছি। জেলাশাসকদের কাছ থেকেও ফিডব্যাক নেওয়া হয়েছে। কেউই লকডাউন তুলতে বলছেন না। আমি আবারও মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে কথঅ বলব। তবে যা মনে হচ্ছে, তাতে লকডাউন তোলা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সোশ্যঅল ডিসট্যান্সিং-এর জন্য আরও কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে।’

এছাড়াও মোদী বলেন, ”আমরা এমার্জেন্সির মত একটঅ পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। তার জন্য বিভিন্ন রকমের ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে। দেশের স্বার্থে আমাদের আরও কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে।”

২৫ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে এই লকডাউন। ৩ সপ্তাহ, ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত এই লকডাউন চলার কথা। মেয়াদ শেষ হওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এমনটাই জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। অনেক বিশেষজ্ঞ মানুষই মনে করছে লকডাউন আরও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। তবে সেক্ষেত্রে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।

ফলে ঝুঁকি না নিয়ে এখনও বিমান বাতিলের ঘোষণা করে দিয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া ও ইন্ডিগো। এই সংস্থার তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ইন্টারন্যাশনাল এবং ডোমেস্টিক সমস্ত উড়ান বাতিল করা হয়েছে। এমনিতেই ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত এয়ার ইন্ডিয়ার সমস্ত উড়ান বন্ধ রয়েছে।

ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজ্য থেকে কেন্দ্রের কাছে আর্জি জানানো হয়েছে যাতে লকডাউন বাড়িয়ে দেওয়া হয়। শুধু রাজ্য গুলোই নয় একাধিক বিশেষজ্ঞ কেন্দ্রীয় সরকারকে একই পরামর্শ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর তৈরি ১১ জনের বিশেষ কমিটিকে সেসব পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যেখানে বেশির ভাগেরই মত লকডাউন বাড়ানোর দিকেই।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সব রাজ্যের ধর্মীয় স্থান বন্ধ করে দিতে হবে। কোনও ধর্মের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া যাবে না। স্কুল-কলেজ ও জুন মাস পর্যন্ত বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।