হায়দরাবাদ: দু-দু’বার ওয়ান ডে ও একবার টি-২০ বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতি যদি ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের স্মৃতির মণিকোঠায় উজ্জ্বল হয়ে থাকে, তবে নিশ্চিতভাবে স্মৃতির অ্যালবামে আলাদা জায়গা করে নেবে টিম ইন্ডিয়ার ন্যাটওয়েস্ট ট্রফি জয়৷দেড় দশক আগে লর্ডসের উত্তেজক ফাইনাল প্রতিষ্ঠা দিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেটের তরুণ প্রজন্মকে৷

যুবরাজ-কাইফের দুরন্ত লড়াইয়ে ক্রিকেটবিশ্বের কুর্নিশ আদায় করে নিয়েছিল টিম ইন্ডিয়া৷ ২০০২-এর সেই ঐতিহাসিক জয়ের প্রসঙ্গ হঠাৎই উত্থাপিত হল সোশ্যাল মিডিয়ায়৷ যদিও একটু ভিন্ন দৃষ্টিকোণে৷ ন্যাটওয়েস্ট ফাইনাল জয়ের নায়ক মহম্মদ কাইফ এতদিনে হদিশ দিলেন সেদিনের লড়াইয়ের একটি নতুন অধ্যায়ের৷

আরও পড়ুন: এই কারণেই হেলমেটে জাতীয় পতাকা ব্যবহার করেন না ধোনি

ইংল্যান্ডের ৫ উইকেটে ৩২৫ রানের বিশাল ইনিংস তাড়া করতে নেমে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের কেবল গফ-ফ্লিন্টফদের আগুনে বোলিং সামলাতে হয়েছে এমন নয়, বরং ব্রিটিশদের বিষাক্ত স্লেজিংও হজম করতে হয়েছে কাইফ-যুবিকে৷ যদিও কোনও প্রতিবন্ধকতাই থামাতে পারেনি ভারতীয় তরুণদের৷ ম্যাচ জিতে নিঃশব্দে সেই স্লেজিংয়ের জবাব দিয়েছিলেন কাইফরা৷

ভারতীয় ক্রিকেটের মূল স্রোত থেকে দূরে সরে গেলেও মহম্মদ কাইফ সোশ্যাল মিডিয়ায় অত্যন্ত সক্রিয়৷ টুইটারে নিয়মিত অনুরাগীদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন তিনি৷ এমনই এক অনুরাগীর প্রশ্ন ছিল ন্যাটওয়েস্ট ট্রফি নিয়ে৷

আরও পড়ুন: মোদীর পরিবর্ত কি দ্রাবিড়!

বৈভব য়েলেগাঁওকর নামক এক সমর্থক কাইফকে প্রশ্ন করেন, ‘হাই কাইফ, ন্যাটওয়েস্ট ফাইনাল চলাকালীন আপনি এবং যুবি নিজেদের মধ্যে কি কথাবার্তা বলছিলেন? কোনও ইংলিশ ক্রিকেটার কি স্লেজিং করছিলেন সেই সময়?’

উত্তরে কাইফ লেখেন, ‘হ্যাঁ, আসলে নাসের হুসেন আমাকে একজন বাস ড্রাইভার বলেছিল৷ ওদের দারুণ সফর করানো গিয়েছিল৷’

কাইফের উত্তর সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো ভাইরাল হয়ে যায়৷ এতদিন ধরে এমন একটা বিষয় প্রকাশ্যে না আনার জন্য কাইফের প্রতি বাড়তি শ্রদ্ধা জ্ঞাপণ করতেও দেখা যায় অনুরাগীদের৷

আরও পড়ুন: কেকেআরকে লেটার মার্কস সৌরভের

ন্যাটওয়েস্ট ফাইনালে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ড ৫ উইকেটে ৩২৫ রান তোলে৷ শতরান করেন ট্রেসকোথিক (১০০ বলে ১০৯) ও নাসের হুসেন (১২৮ বলে ১১৫)৷ জবাবে ব্যাট করতে নেমে ভারতের শুরুটা দারুণ করেন সেহবাগ (৪৯ বলে ৪৫) ও অধিনায়ক সৌরভ (৪৩ বলে ৬০)৷ তবে মিডল অর্ডারে দীনেশ মোঙ্গিয়া (৯), তেন্ডুলকর (১৪) ও দ্রাবিড় (৫) দ্রুত আউট হয়ে বসায় চাপে পড়ে যায় ভারত৷ নিশ্চিত হারের মুখ থেকে ভারতকে ফিরিয়ে এনে জয়ের আসনে বসিয়ে দেন যুবরাজ (৬৩ বলে ৬৯) ও কাইফ (৭৫ বলে অপরাজিত ৮৭)৷

আরও পড়ুন: ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর ইঙ্গিত যুবরাজের