মুম্বই: দেশে ক্রমবর্ধমান মব লিঞ্চিংয়ের প্রতিবাদে সরব হয়েছিলেন বিদ্বজ্জনেরা। দেশে হয়ে জয় শ্রীরাম ধ্বনি, হিন্দুত্বের ঝড়, গণ পিটুনি এইসব কিছুর প্রতিবাদে প্রথমে ৪৯ জন শিল্প ও সাংস্কৃতিক সম্প্রদায়ের মানুষ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে খোলা চিঠি দিয়েছিলেন। যাদের মধ্যে ছিলেন অভিনেত্রী ও চলচ্চিত্র পরিচালক অপর্ণা সেন, পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপ, গায়িকা শুভা মুদ্গল, লেখক- কলামনিস্ট রামচন্দ্র গুহ সহ আরও অনেকে। আর সেই কারণে এই সকল বুদ্ধিজীবীদের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ আনা হয়েছিল।

তারপরেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন শিল্প সংস্কৃতি মহলের অনেক বুদ্ধিজীবীরা। এই ৪৯ জনের বিরুদ্ধে কেন দেশদ্রোহিতার অভিযোগ আনা হল তা নিয়ে আরও ১৮০ জন শিল্পী পুনরায় প্রধানমন্ত্রীকে একটি চিঠি দেন। যাদের মধ্যে ছিলেন ইতিহাসবিদ রমিলা থাপার, অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ,সিনেমাটোগ্রাফার আনন্দ প্রধান প্রমুখ ব্যাক্তিরা। তারা ওই ৪৯ জন শিল্পীর সমর্থনে চিঠি দিয়েছিলেন। জানিয়েছিলেন দেশের নাগরিক হিসেবে তারা প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিতেই পারেন। এই কারনে তাদের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ এনে জোর করে মুখ বন্ধ করার এই চেষ্টা কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। জোর করে বাক স্বাধীনতাতে হস্তক্ষেপ করার প্রতিবাদে সরব হয়েছিলেন ওই ১৮০ জন। তাদের সহকর্মীদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কারণের ভিত্তিতে তারা প্রধানমন্ত্রীকে পুনরায় চিঠি দিয়েছিলেন।

বিহারে হওয়া গণপিটুনির প্রতিবাদস্বরূপ প্রধানমন্ত্রীকে ওই ৪৯ জন চিঠি দিয়েছিলেন যে জন্য দেশদ্রোহিতার অভিযোগ আনা হয়েছিল তাদের বিরুদ্ধে। সেই প্রসঙ্গে অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ জানিয়েছিলেন জোর করে আইনের সাহায্য নিয়ে মুখ বন্ধ করা কোনভাবেই মেনে নেবেন না তারা। দরকার হলে আরও বড় আন্দোলন করবেন। এর আগেও বিজেপির হিন্দুত্বের রাজনীতির প্রতিবাদ করায় সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি। একজন পুলিশকে খুন করার থেকে একটি গরুর মৃত্যুকে বেশী প্রাধান্য দেওয়া হয় মন্তব্য করার ফলে বিজেপি সমর্থকদের বিষ নজরে পড়েছিলেন নাসিরুদ্দিন শাহ। তার পরেও তিনি তাঁর মন্তব্যতে স্থির ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে মব লিঞ্চিঙ্গের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর জন্য গত সপ্তাহে বিহারের মুজফফরপুরে অপর্ণা সেন, আদোর গোপালকৃষ্ণান, লেখক-কলামনিস্ট রামচন্দ্র গুহ সহ এই সকল মানুষজনের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ আনা হয়। তারপরেই এই অভিযোগের ভিত্তি নিয়ে ১৮০ জন বুদ্ধিজীবী নতুন করে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দেন অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ তাতে সই করেছিলেন।