বেঙ্গালুরু: খোঁজ নেই ল্যান্ডার বিক্রমের। গত ১০ দিন ধরে প্রহর গুণছে ভারতবাসী। যদি একটুও সাড়া মেলে। আপাতত শেষ ভরসা মার্কিন গবেষণা সংস্থা নাসা। যেখানে ল্যান্ডার বিক্রম পড়ে আছে, মঙ্গলবার তারই আশেপাশে পৌঁছে যাব নাসার অরবিটার এলআরও।

আশা করা হচ্ছে, ওই এলাকার ছবি তুলে ইসরোকে পাঠাবে নাসা। নাসার তরফে এভাবেই সাহায্যের বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ইসরোর দিকে। মঙ্গলবারই ওই অংশের ছবি তুলে পাঠাতে পারে নাসার অরবিটার। হাতেও আর বেশি সময় নেই। ২০ থেকে ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই রাত শুরু হবে চাঁদে। সূর্যের আলো চলে গেলেই আয়ু ফুরোবে বিক্রম আর রোভার প্রজ্ঞানের। তার এর মধ্যে যোগাযোগ করা গেলে, তবেই কিছুটা শ্বাস নেবে বিজ্ঞানীরা।

ল্যান্ডার বিক্রমকে ইতিমধ্যেই ‘হ্যালো’ মেসেজ পাঠিয়েছে নাসা৷ নাসা-র জেট প্রোপালসন ল্যাবরেটরি রেডিয়ো ফ্রিকুয়েন্সির মাধ্যমে বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগে চেষ্টা চালাচ্ছে৷ ডিপ স্পেস নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ল্যান্ডার বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হচ্ছে৷ ইসরো-র সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক ভাবেই এই চেষ্টা করছে নাসা৷

চাঁদের অবতরণের মিনিট দুয়েক আগে ল্যান্ডার বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ইসরোর। তবে চন্দ্রযান ২ কিন্তু পুরোপুরি ব্যর্থ হয়নি। অরবিটারের সঙ্গে যোগাযোগ ছিন্ন হয়নি। বরং সেটি সঠিক কক্ষপথে চাঁদকে প্রদক্ষিণ করছে, ছবি তুলেও পাঠাবে ভারতে। নাসা-র আশা, চন্দ্রযান ২ -এর অরবিটার চাঁদ সম্পর্কে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও অজানা তথ্য পাঠাবে৷ যেহেতু অরবিটারটিতে অত্যাধুনিক প্লেলোড আছে, ফলে চাঁদের পরিষ্কার ছবি পাঠাবে৷

ল্যান্ডিং-এর জন্য ৭ সেপ্টেম্বরকেই বেছে নেওয়া হয়েছিল, কারণ ওই দিন থেকে চাঁদের মাটিতে দিনের শুরু হয়। ল্যান্ডার বিক্রম আর রোভার প্রজ্ঞানের আয়ু পৃথিবীর হিসেবে ১৪ দিন অর্থাৎ চাঁদের একটি দিন। বর্তমানে চাঁদের যে অংশে বিক্রম পড়ে আছে, সেখানে সূর্যের আলো পৌঁছচ্ছে। কিন্তু, ২০-২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চাঁদে নেমে আসবে রাত। সূর্যের আলো আর পৌঁছবে না। ফলে, শক্তি হারাবে বিক্রম। চিরদিনের মত স্তব্ধ হয়ে যাবে বিক্রম।