নিউ ইয়র্ক: শনি আর তার চাঁদ হল মহাকাশের সবথেকে রহস্যময় বস্তু। আর প্রাণের আশা নিয়ে তো চলছেই গবেষণা। নাসার মহাকাশযান ক্যাসিনিতে এবার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এল বিজ্ঞানীদের হাতে। শনির চাঁদ টাইটানে প্রাণ থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।

নাসার ক্যাসিনি স্পেসক্রাফ্ট থেকে পাওয়া তথ্য থেকে জানা গিয়েছে যে, পৃথিবীতে সমুদ্রের যেমন একটি গড় উচ্চতা রয়েছে। তেমনই, শনিগ্রহের চাঁদ, টাইটান-এও রয়েছে এমন গড় উচ্চতা।

অর্থাত্‍, আমাদের সৌরজগতে, পৃথিবী ছাড়া কেবলমাত্র টাইটানের পৃষ্ঠেই রয়েছে ‘স্টেবল লিকুইড’ বা ‘স্থিতিশীল জলীয় পদার্থ’। টাইটানের সমুদ্র বা হ্রদে জলের বদলে রয়েছে হাইড্রো-কার্বন। টাইটানের সমুদ্রতলে রয়েছে কিছু শক্ত জৈব উপাদান। টাইটানের সমুদ্রতলের এই হাইড্রো-কার্বন, জলের মতোই বয়ে চলে। এর ফলে আশপাশের হ্রদ বা সাগরগুলির সবারই পরস্পরের সঙ্গে যোগ রয়েছে।

নিউ ইয়র্কের কর্নেল ইউনিভারসিটির বৈজ্ঞানিক অ্যালেক্স হেয়েজ এই গবেষণার নথি প্রকাশ করেছেন একটি সায়েন্স জার্নাল, জিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটার-এ। সেখানেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, টাইটানের মহাকর্ষের ফলেই সাগরজল একটি কনস্ট্যান্ট উচ্চতায় পৌঁছয়। একই ভাবে, পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবেই ওঠা-নামা করে সমুদ্রপৃষ্ঠ।

নাসার ক্যাসিনির তোলা ছবিরে দেখা যাচ্ছে, ধোঁয়াশা ঘেরা টাইটান। এটাই শনির সবথেকে বড় চাঁদ। টাইটানের পরিবেশ খুবই জটিল রাসায়নিক পদার্থে তৈরি। রয়েছে মিথেন আর নাইট্রোজেন। আর সেজন্যই এই ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।