ভুবনেশ্বর: পূর্ব সতর্কতা থাকা সত্বেও ওড়িশাকে একেবারে ধুলিস্যাৎ করে দিয়েছে ঘূর্ণীঝড় ফণী। প্রচুর ঘর-বাড়ি গাছপালা, কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। দামি দামি হোটেলের এখন কঙ্কালসার চেহারা। এমনকি এয়ারপোর্টেও ধ্বংসলীলা চালিয়েছে ফণী। ওডিশা জুড়ে মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৪০ জনের।

এই বিধ্বংসী ঘূণিঝড়ের প্রভাবে ওডিশার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও টেলিকম নেটওয়ার্ক প্রায় বিপর্যস্ত হয়ে গিয়েছে। বহু জায়গাতেই বিদ্যুৎ সংযোগ ফেরানো সম্ভব হয়নি এখনও। বিশেষত ভুবনেশ্বর ও কটকের বিস্তীর্ণ অংশ ডুবে যায় অন্ধকারে। সম্প্রতি নাসা সেই ছবি প্রকাশ করে দেখিয়েছে কীভাবে অন্ধকারে ডুবে যায় ওডিশা।

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ভুবনেশ্বর ও কটকের দুটি ছবি প্রকাশ করেছে। একটি ৩০ এপ্রিলের ফণীর আগের ছবি ও একটি ৫ মে অর্থাৎ ফণী বয়ে যাওয়ার দু’দিন পরের ছবি। আগের ছবিতে দেখা যাচ্ছিল বিদ্যুতের আলোয় উজ্জ্বল জায়গাগুলি। আর ফণীর পরে সেইসব অংশেই অন্ধকার চোখে পড়ার মত। নাসার আর্টিকল অনুযায়ী, ওড়িশার প্রায় ১ লক্ষ ৫৬ হাজার ট্রান্সমিশন টাওয়ার মাটি থেকে উপড়ে গিয়েছে।নাসা এর আগে সাইক্লোনের ছবিও পোস্ট করেছে ট্যুইটার হ্যান্ডেলে। গত ৩ মে সেই ভয়াবহ ঝড় আছড়ে পড়েছিল ওডিশা উপকূলে। প্রায় ২০০ কিলোমিটার বেগে আছড়ে পড়ে সেই ঝড়।

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার অ্যাটমোস্ফিয়ার ইনফ্রারেড সাউন্ডার’র ক্যামেরায় ধরা পড়ে ছবি। স্থলভাগে প্রথম আছড়ে পড়ার সময় ৪ ক্যাটেগরির হ্যারিকেনের সমান শক্তি ছিল ফণীর।

নাসার উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়া পার্পল রঙের মেঘ হচ্ছে অতি ঠাণ্ডা মেঘ। এর থেকেই বজ্র-বিদ্যুত্‍ হয়ে থাকে। সাইক্লোনের একদম মধ্যভাগ নীল রঙে দেখানো হয়েছে। হালকা বৃষ্টির মেঘ প্রদর্শিত হয়েছে সবুজ রঙে। কমল রঙ হচ্ছে মেঘ-শূন্য বাতাস।

ওড়িশা পেরিয়ে সেই ঝড় চলে যায় বংলাদেশের দিকে।

ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর তরফে ব্যবহৃত পাঁচটি উপগ্রহের মধ্যে স্ক্যাটস্যাট-১ উপগ্রহটি ঘূর্ণিঝড় ফণীর উপরে নজর রেখেছিল। প্রতি মুহূর্তের আপডেট দিয়েছে এই স্যাটেলাইট। ওশনস্যাট-২ উপগ্রহটি সমুদ্রের জলস্তর, বাতাসের গতি এবং অভিমুখ সম্পর্কে তথ্য পাঠিয়েছিল।