সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: নরেন্দ্র মোদী সরকারের নতুন চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে আবারও সেই কৃষকরা। নতুন সরকার গঠনের আগে যে বাজেট হয়েছিল সেখানে বছর ৬০০০ টাকা করে কৃষকদের দেওয়া হবে বলা হয়েছে অর্থাৎ মাসে ৫০০ টাকা।

প্রশ্ন উঠছে বর্তমান আবহাওয়ার পরিস্থিতি এবং পূর্বাভাস অনুযায়ী এই মাসে ৫০০ টাকা কতটা কৃষকদের সাহায্য করবে। নতুন সরকার কি সারা দেশের পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে কিছু ভাবছে ? তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।

দেখা যাচ্ছে , মোদী জমানার শুরু থেকেই বর্ষা বিমুখ। ২০১৪ সালে স্বাভাবিকের চেয়ে ১২ শতাংশ কম বৃষ্টি হয় দেশে। ২০১৫ সালে ১৪ শতাংশ কম। ২০১৬ ও ২০১৭ সালে বর্ষা মোটের উপর স্বাভাবিক থাকলেও বিক্ষিন্ত এলাকা জুড়ে খরা হয়েছে।

বিশেষ করে তামিলনাড়ুর কৃষকরা ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাঁদের আন্দোলন আছড়ে পড়েছে রাজধানীতেও। এই তালিকায় রয়েছে উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ, পাঞ্জাবের মতো রাজ্যও। ২০১৯ সালে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, ১ থেকে ৯ জুনের মধ্যে দেশে গড়ে ৩২.২ মিলিমিটার বৃষ্টি হওয়ার কথা। কিন্তু এ বার সেটা হয়েছে মাত্র ১৭.৭ মিলিমিটারে। ফলে এই ক’ দিনে বৃষ্টির ঘাটতি ছুঁয়েছে ৪৫ শতাংশ।

সব থেকে খারাপ অবস্থা মধ্য ভারতের। সেখানে ঘাটতি ৬৬ শতাংশ। এর মধ্যে গুজরাত এবং কচ্ছ অঞ্চলে বৃষ্টির ঘাটতি একশো শতাংশ। অন্য দিকে মহারাষ্ট্রের বিদর্ভ এবং মরাঠাওয়াড় অঞ্চলে বৃষ্টি ঘাটতি যথাক্রমে ৫০ এবং ৭০ শতাংশ। পশ্চিমবঙ্গ-সহ পূর্ব এবং উত্তরপূর্ব ভারতে বর্ষার ঘাটতি ৪৯ শতাংশ। এই ঘাটতি পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারন সেই এল নিনো।

আবার ‘লং রেঞ্জ ফোরকাস্টে’র মাধ্যম গত বছর মৌসম ভবন জানিয়েছিল, ২০১৯ বর্ষার মরসুমে দেশের দীর্ঘকালীন গড়ের ৯৭ শতাংশ বৃষ্টি হবে। অর্থাৎ মোটের উপর স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত, কিন্তু বর্ষার যে গতিবিধি তাতে দেখা যাচ্ছে , অগস্ট-সেপ্টেম্বর নাগাদ গা-ঝাড়া দিতে পারে বর্ষা। সে সময় পর্যাপ্ত বৃষ্টি মিলতে পারে সারা দেশে।

তবে এই বৃষ্টি তার আগের মাসগুলির বড় ঘাটতিকে মিটিয়ে ফেলা খুব শক্ত। আবহবিদরা বলছেন, মাস দেড়েকের বৃষ্টিতে ঘাটতি মেটার কথা নয়। ওই সময়ের মধ্যে ঘাটতি মেটাতে হলে অতিবৃষ্টি প্রয়োজন। তাতে খাতার হিসেবে ঘাটতি মিটতে পারে। আর এখানেই আশঙ্কা কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতির। এই পরিস্থিতি আগামী দিনে থাকলে কৃষক এবং নাগরিকদের লাভের থেকে ক্ষতিই বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে।

প্রশ্ন উঠে আসছে এই তথ্যের ভিত্তিতেই। রাজনীতিবিদদের মতে , গতবার এনডিএ, বলা ভালো ‘মোদী সরকার’ ক্ষমতায় থাকাকালীন যা হওয়ার তা হয়ে গিয়েছে। পিছনে তাকিয়ে লাভ নেই। আগামীতে কি করা হবে সেটা নিয়েই প্রশ্ন। কারণ ‘ফির একবার মোদী সরকার’ এসেছে দেশে। এবার আরও শক্তিশালী তাঁর দল বিজেপি।

শরিকদের সাহায্য ছাড়াই মিলেছে ৩০৩ আসন। বলা হচ্ছে জোটকে সঙ্গে রাখলেও এই মোদী সরকার আরও অনেক স্বাবলম্বী। এই বিপুল জনপ্রিয়তার উপর দাঁড়িয়ে দেশের কৃষকদের কতটা বন্ধু হয়ে উঠবে মোদী সরকার তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

কারণ ইতিমধ্যেই খরা শুরু হয়ে গিয়েছে ভারতের বেশ কিছু অঞ্চলে। এখনও এই দফতরের নয়া দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী নরেন্দ্র তোমারের থেকে তেমন কিছু শোনা যায়নি। যদিও গ্রীষ্মকালীন পার্লামেন্ট শুরু হলে তা স্পষ্ট হবে। আপাতত যা দেখা যাচ্ছে ৬০০০-এর বার্ষিক ভাতাই কৃষকদের ভরসা। সেই ভরসা কতটা শক্তিশালী হতে পারে সেটাই দেখার।