কলকাতা: আর একমাস পর কী হবে? আসানসোলের মঞ্চে দাড়িয়ে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন জনতার উদ্দেশ্যে৷ হাত তুলে বলতে লাগলেন, ‘‘ফির এক বার … ৷’’ জনতাও চিঞকার করে উত্তর ফিরিয়ে দিল, ‘‘ …মোদী সরকার৷’’ কয়েকবার স্লোগানগুলি চিৎকার করে বলার পর শান্ত হল জনতা৷ মঞ্চে তখন মৃদু হাসছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী৷ অরপরই বলতে শুরু করলেন ‘‘আজ ২৩ এপ্রিল৷ একমাস পর দেশে আবার মোদী সরকার আসবে৷ কিন্তু এখানে কী হবে? দিদির হাতের তাস শেষ হয়ে যাবে৷ সংসদে আরও শক্তিশালী হয়ে আসবে মোদী সরকার৷ আপনাদের এক একটা ভোট মোদীর খাতায় জমা হবে৷

এদিন, বাংলার রাজ্য সরকরি কর্মীদের সব থেকে সংবেদনশীল জায়গা ছুঁলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ ইঙ্গিত দিলেন, বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে চালু হবে সপ্তম বেতন কমিশন৷ মোদীর বক্তব্য, দিল্লিতে সপ্তম বেতন কমিশন রয়েছে, ত্রিপুরাতে রয়েছে৷ কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ এখনও ষষ্ঠ বেতন কমিশনও পায়নি৷ এরপরই একধাপ এগিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারকে আক্রমণ করেন মোদী, ‘‘বাংলায় পিসি-ভাইপোর সরকার তাদের পার্টিতে জগাই-মাধাই ভর্তি করে রেখেছেন৷

এখানকার যুবকরা পরীক্ষায় পাশ করে চাকরি পাননা৷ শিক্ষিত যুবকদের বেতন দেওয়ার টাকা নেই৷ গুন্ডাদের দেওয়ার টাকা আছে৷ সরকারি কর্মীদের ডি এ দেওয়ার টাকা নেই, সপ্তম বেতন কমিশন দেওয়ার টাকা নেই৷’’

অন্যদিকে, রাজ্যের বাংলাদেশ সীমান্তবার্তী জেলাগুলিতে সিটিজেনসিপ অ্যামেন্ডমেন্ট বিল এবং এনআরসি বা জাতীয় নাগরিক পঞ্জীকরণকে নিয়ে প্রচার জোরদার করার কৌশলকেই প্রাধান্য দিতে চাইছেন নরেন্দ্র মোদী অদিনের সভা? এবারও তা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে৷ রাজ্যের বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব লোকসভা নির্বাচন উপলক্ষে প্রচার শুরু করেছে৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ – রাজ্যেজুড়ে সভা করেছেন৷ মালদা জেলা বাদ দিলে উত্তরবঙ্গের নির্বাচনপর্ব মিটে গিয়েছে৷

বিজেপির দাবি উত্তরবঙ্গের মানুষ বিজেপিকে ঢেলে ভোট দিয়েছে – কারণ তারা মোদী-শাহর থেকে এনআরসি এবং সিটিজেনসিপ অ্যামেন্ডমেন্ট বিল নিয়ে আশ্বাসবাণী পেয়েছে৷ এদিন মোদী জানান, রাজ্যে এনআরসি হবেই৷ নতুন মোদী সরকার লোকসভায় প্রবল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে৷ রাজ্যসভায় সিটিজেনসিপ অ্যামেন্ডমেন্ট বিল পাশ হবেই৷ মমতা দিদির অনুপ্রবেশকারী ভোটব্যাংখ বাংলায় শেষ হবেই৷