কলকাতা: ক্লাব প্রাঙ্গণে ফ্যাকাসে একটা অনুষ্ঠান। গতবছর যেভাবে শতবর্ষের অনুষ্ঠানে পদার্পন করেছিল ক্লাব তার সিকিভাগ আস্ফালনও নেই। সাহিত্যিক স্বপ্নময় চক্রবর্তীর হাত ধরে প্রকাশিত হল বিশেষ শতবর্ষ পুস্তিকা। কিন্তু করোনার জাঁতাকলে কোনও কিছুতেই যেন সেই প্রাণটা ছিল না।

ক্লাবের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ক্লাবকে জাতীয় লিগ দেওয়া দুই কোচ মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য এবং সুভাষ ভৌমিক। নিয়ম মেনে হল পতাকা উত্তোলন। সবমিলিয়ে অনাড়ম্বরে পালিত হল ইস্টবেঙ্গলের শতবর্ষের অনুষ্ঠান। সবকিছুর মধ্যে যেন ইতিউতি উঁকি দিচ্ছিল একটাই প্রশ্ন, আইএসএলে কী আসন্ন মরশুমে দেখা যাবে ক্লাবকে। জাতীয় লিগ ও আসিয়ান জয়ী কোচ সুভাষ ভৌমিক ওরফে ভোম্বল হুঙ্কার ছেড়ে জানিয়েই দিলেন, ‘আইএসএল অপেক্ষা করবে ইস্টবেঙ্গলের জন্য।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ক্রীড়ামন্ত্রী অরুপ বিশ্বাস বললেন, ‘ইস্টবেঙ্গল ছাড়া আইএসএল উত্তেজনাহীন একটা খেলা হবে। ইস্টবেঙ্গল না খেললে কোনও টুর্নামেন্ট সম্পূর্ণ হয় না। তাই আইএসএল কর্তৃপক্ষই এবার ঠিক করবে যে তাঁরা ইস্টবেঙ্গলকে ছাড়া খেলবে নাকি ইস্টবেঙ্গলকে নিয়ে খেলবে।’

সমর্থকদের আশ্বাস দিয়ে শীর্ষ কর্তা দেবব্রত সরকার জানালেন, ‘রেজাল্ট এখনও বেরোয়নি যে আমরা হারিয়ে গিয়েছি। এখনও আমরা আইএসএল খেলার লড়াইয়ে আছি। এফএসডিএল এখনও চেষ্টা করছে।’

একইসঙ্গে করোনা পরিস্থিতি মিটলে সব স্বাভাবিক হলে গতবছরে যেভাবে শুরু হয়েছিল তার দ্বিগুণ সমারোহে শতবর্ষ উদযাপন করার আশ্বাস সমর্থকদের দেন দেবব্রত বাবু। সবকিছুর মধ্যে অনেকটা রাতের দিকে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের জন্য বোধহয় দিনের সবচেয়ে বড় চমকটা অপেক্ষা করছিল। ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত ১০টা বেজে ০৩ মিনিট। ইস্টবেঙ্গলকে শতবর্ষের অভিনন্দন জানিয়ে টুইট করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

টুইটারে তিনি লিখলেন, ‘ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের ভিন্ন প্রজন্মের ফুটবলার, সদস্য এবং সমর্থকদের শতবর্ষের অভিনন্দন। ভারতের খেলাধূলার জগতে, পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়া সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যে এটা একটা মাইলস্টোন। ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের মশাল ময়দানকে আজীবন প্রজ্জ্বলিত করে রাখুক।’ শতবর্ষের ইস্টবেঙ্গলে অভিনন্দন বার্তা বয়ে এল এএফসি’র তরফ থেকেও। একাধিক ছবি টুইটারে পোস্ট করে প্রাক্তন আসিয়ান কাপ চ্যাম্পিয়নদের অভিনন্দন জানাল এশিয়ান ফুটবলের গভর্নিং বডি।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ