নয়াদিল্লি: তুমি এতোটাই ইয়ং এবং কর্মশক্তিপূর্ণ যে তোমার ক্ষেত্রে ‘অবসর’ শব্দটা আমি ব্যবহার করতে চাই না। বরং বলা ভালো ক্রিকেট মাঠে একটা ফলপ্রসূ ইনিংসের পর জীবনের পরবর্তী ইনিংসের জন্য তুমি প্যাড-আপ করছো। ঠিক এভাবেই জাতীয় দল থেকে সদ্য ‘প্রাক্তন’ হওয়া ক্রিকেটার সুরেশ রায়নার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার দেশের বিশ্বজয়ী প্রাক্তন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির কাছে পৌঁছে গিয়েছিল নমোর প্রশংসা বার্তা। এদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর কাছে আসা দেশের প্রধানমন্ত্রীর খোলা চিঠি শেয়ার করলেন রায়না।

উল্লেখ্য, গত ১৫ অগস্ট দেশের ৭৪তম স্বাধীনতা দিবসে মহেন্দ্র সিং ধোনির অবসর ঘোষণার অনতিপরে অনুরাগীদের অবাক করে ১৫ বছরের আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে ইতি টানেন সুরাশ রায়নাও। ২০১৮ জাতীয় দলের ছায়াপথ থেকে সরে যাওয়ার পর লড়াই করলেও আর সুযোগ মেলেনি। অপেক্ষা দীর্ঘায়িত না করে তাই ধোনির সঙ্গে স্বাধীনতা দিবসকেই রায়না বেছে নিয়েছেন অবসরের দিন হিসেবে। আপাতত আইপিএল প্রস্তুতিতে মগ্ন তিনি। তার আগে প্রধানমন্ত্রীর এমন প্রশংসাসূচক খোলা চিঠি নিঃসন্দেহে উদ্বুদ্ধ করবে উত্তরপ্রদেশের ক্রিকেটারকে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর চিঠির ছবি শুক্রবার শেয়ার করেছেন রায়না এবং পরিপ্রেক্ষিতে তিনি জানিয়েছেন, ‘আমরা যখন খেলি তখন দেশের জন্য ঘাম-রক্ত প্রত্যর্পণ করি। পরিবর্তে দেশবাসীর ভালোবাসা সর্বোপরি দেশের প্রধানমন্ত্রীর ভালোবাসা পাওয়ার চেয়ে উত্তম প্রশংসা আর কিছু হতে পারে না। আপনার প্রশংসা এবং শুভেচ্ছার জন্য ধন্যবাদ নরেন্দ্র মোদী জি। আমি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে সবকিছু গ্রহণ করলাম। জয় হিন্দ!’

নরেন্দ্র মোদী তাঁর প্রশংসাসূচক খোলা চিঠিতে রায়নার উদ্দেশ্যে লিখেছেন, ‘১৫ অগস্ট নিঃসন্দেহে তুমি যে সিদ্ধান্তটা গ্রহণ করেছো সেটা তোমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত। তুমি এতোটাই ইয়ং এবং এনার্জেটিক যে আমি তোমার ক্ষেত্রে ‘অবসর’ শব্দটা ব্যবহার করতে চাই না। তুমি ক্রিকেট মাঠে একটা ফলপ্রসূ ইনিংসের পর জীবনের দ্বিতীয় ইনিংসের জন্য এখন প্যাড-আপ করছো।

তুমি ক্রিকেটকে শ্বাস-প্রশ্বাস করে বেঁচেছো। ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের প্রতি তোমার আকর্ষণ। মুরাদনগরের গলি থেকে লখনউয়ের খেলার মাঠে পা। তিন ফর্ম্যাটে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার মধ্যে দিয়ে একটা ঘটনাবহুল জার্নি ছিল এটা। প্রজন্মের পর প্রজন্ম তোমায় শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে মনে রাখবে না, মনে রাখবে একজন বোলার হিসেবে। যে প্রয়োজনের সময় হাত ঘুরিয়ে খেলার মোড় ঘোরাতে পারত।

একইসঙ্গে তোমার ফিল্ডিং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে আদর্শ হয়ে থাকবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কয়েকটা সেরা ক্যাচে তোমার স্বতন্ত্রতার ছাপ মিশে থাকবে। মাঠে তোমার অ্যাথলেটিসিজম দলের হয়ে যে কত রান বাঁচিয়েছে তা গুনতে বহুদিন লেগে যাবে।’

একইসঙ্গে ২০১১ বিশ্বকাপে রায়নার অবদানের কথা প্রধানমন্ত্রী আলাদাভাবে তুলে ধরেছেন। জানিয়েছেন রায়নার মতো অল-রাউন্ডার সবসময় একজন আদ্যোন্ত টিমম্যান ছিল। মোদী জানিয়েছেন রায়নার নাম ‘টিম স্পিরিটে’র সমার্থক। একইসঙ্গে অবসরোত্তর জীবনে রায়না আরও বেশি করে তাঁর পরিবার-পরিজনদের সঙ্গে কাটাতে পারবেন বলে আশাপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।