বেঙ্গালুরু: ইনফোসিসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এন আর নারায়ণমূর্তি মনে করেন সংস্থা সিইও , ম্যানেজমেন্ট ও বোর্ড অফ ডিরেক্টরদের মধ্যে ক্ষমতার একটা ভারসাম্য থাকা দরকার যাতে কেলেঙ্কারি এবং প্রতারণা আটকানো যায় এবং নিশ্চিত করা যায় কর্পোরেট সম্পদের অপব্যবহার করে কেউ ধনী হবে না।

নারায়ণমূর্তি জানিয়েছেন, কোম্পানির একেবারে নিচু স্তরের কর্মীদের বেতনের উপযুক্ত গুণিতক হওয়া উচিত ম্যানেজমেন্টের বেতন। উদাহরণ হিসেবে যদি একেবারে নিচুস্তরের কোন কর্মীর বেতন বছরে ২-৩ লক্ষ টাকা হয় তাহলে সিইও বেতন ৭০-৮০ লক্ষ টাকা হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এদেশে কোম্পানি বোর্ডের শাসন সম্পর্কে। তাঁর মতে, কর্পোরেট কেলেঙ্কারির মূল উৎস হল নৈতিক দিক থেকে দুর্বলতা এবং বোর্ডের চেয়ারম্যানের অযোগ্যতার জন্যই কেলেঙ্কারি ঘটে।

তাঁর যুক্তি, যখন সিইও বোর্ডের চেয়ে ক্ষমতাশালী হয়ে ওঠে এবং চেয়ারম্যান সিইও দ্বারা চালিত হন তখন এমন ঘটনা ঘটে। কর্পোরেট প্রশাসনের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এজেন্সি বাবদ খরচের দিকটা যা ম্যানেজমেন্ট করে থাকে শেয়ারহোল্ডারদের উদ্দেশ্যে।

নারায়ণ মূর্তি জানান বড় প্যাকেজ দিয়ে বিদায়ী এক্সিকিউটিভদের নিরাবতা কেনার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে বোর্ডকে। সেবিকে নারায়ণমূর্তির পরামর্শ, সংস্থা পরিচালনায় কোন অফিসার অথবা বোর্ড সদস্যের গাফিলতি ধরা পড়লে তাকে অবিলম্বে কালো তালিকাভুক্ত করে পদত্যাগ করতে বলা হোক। সে ক্ষেত্রে গাফিলতি শুরু থেকে একেবারে তদন্ত শেষ পর্যন্ত ওই ব্যক্তির ফি ফিরিয়ে নেওয়ার অধিকার থাকুক শেয়ারহোল্ডারদের।

কড়া শাস্তির মাধ্যমে পরিচালনায় গাফিলতি আটকানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি পরিচয় গোপন রেখে দুর্নীতি বা অনিয়মের অভিযোগ আনা হুইসেল ব্লোয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলেছেন। যাতে অন্যায় বা অনিয়মের কথা জানতে পারলে তারা নির্ভয়ে কথা বলতে পারেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ভয় চুপ করে যেন বসে না থাকতে হয়।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।