স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ডোনেশনের গল্পটা প্রথম থেকেই প্রচার করা উচিত ছিল৷ নারদকাণ্ডে ফেঁসে যাওয়ার পর এই মতই উঠে আসছে এখন তৃণমূল কংগ্রেস শিবিরে৷ শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্ট সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার পর শনিবার এ বিষয়ে মুখ খুলতে গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন নেতাই জানালেন এ কথা৷ তাঁদের বক্তব্য, এই বিষয়টি নিয়ে ঠিকঠাকভাবে প্রচার চালাতে দল ব্যর্থ হয়েছে৷ যার ফলে বর্তমানে হাস্যস্পদ হতে হচ্ছে৷

বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় এক নেতা বলেন, ‘‘এটা একেবারে দিনের আলোর মত সত্য যে রাজনীতিকরা ভোটের আগে নির্বাচনী কাজের জন্য ডোনেশন বা চাঁদা গ্রহণ করে থাকে৷ কারণ দল থেকে যে টাকাটা দেওয়া হয় সেটাতে পুরোপুরিভাবে নির্বাচনী বৈতরণী পার করা সম্ভব নয়৷ এটা আপামর জনগণও বোঝে৷ ফলে আমরা যদি বিষয়টা এ ভাবেই প্রচার করতাম, তা হলে আজ আর এত বড় প্রশ্নচিহ্নের সামনে আসতে হত না৷’’

কখনও ভুয়ো, আবার কখনও চক্রান্ত৷ নারদকাণ্ডের ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর এ ভাবেই বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা৷ দলের নেত্রী থেকে শুরু করে ছোট-বড় সব নেতারাই বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের স্পষ্ট অবস্থান কী, তার কোনও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা জনগণের কাছে তুলে ধরতে পারেননি৷ ইতিমধ্যেই ফরেনসিক তদন্তে প্রমাণ হয়েছে যে, ভিডিযোর যে ক’টি ফুটেজ পরীক্ষা করা গিয়েছে, সেগুলির সবই ঠিকঠাক৷ কোনওরকম কারচুপি করা হয়নি৷ শেষ পর্যন্ত শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্ট গোটা বিষয়টি তদন্ত করতে সিবিআইকে নির্দেশ দেয়৷

হাইকোর্টের এই নির্দেশের পরেই নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলন করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী গোটা ঘটনাটির পিছনে একটি চক্রান্তের হাত থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন৷ বিজেপিকে এক হাত নিয়ে তিনি বলেন যে, তাঁরা এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাবেন৷ কিন্তু ততক্ষণে মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে রাস্তায় নেমে পড়েছে রাজ্যের বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দল৷

দলের আরও এক সিনিয়র নেতার কথা অনুযায়ী, ‘‘এ ব্যাপারে কোনওদিনই কোনও সমবেত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি৷ শুধুমাত্র একটা ভাষা-ভাষা চক্রান্তের ব্যাপার হাওয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল৷ দল বিধানসভা নির্বাচনে জিতলেও পরবর্তীকালে এটা নিয়ে কীভাবে জনগণের সামনে যাওয়া হবে, সেটা নিয়েও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি৷ ভোটের জন্য অনুদান বলে আজকে যে কথাটা প্রচার করা হচ্ছে, সে কথাটাই আরও আগের থেকে প্রচার শুরু করলে আমরা আজ রাজনৈতিকভাবে অনেকটাই সুবিধাজনক জায়গায় থাকতাম৷ পাশাপাশি আইনগত লড়াই যেমন চলছিল, সে রকম চলত৷’’

সামনের দিন অনেকটাই লড়াইয়ের দিন৷ রাজনৈতিক লড়াইয়ের পথ খুঁজে পাওয়ার জন্য আপাতত তাই দলের নেত্রীর দিকেই তাকিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের বড়, মেজো, সেজো নেতারা৷