ন্যাপেলস: দক্ষিণ ইতালির ন্যাপেলস শহর। আর্জেন্তিনার রাজধানী বুয়েনস আয়রস থেকে দূরত্ব ১১ হাজার কিলোমিটারেরও সামান্য কিছু বেশি। ফুটবল যদি ন্যাপেলসের অধিবাসীদের কাছে ধর্ম হয়, তাহলে ধর্মগুরু অবশ্যই দিয়েগো আর্মান্দো মারাদোনা। বুধবার ধর্মগুরু দিয়েগোর মৃত্যু সংবাদ পৌঁছনোর পর ধাতস্থ হতে বেশ কিছুটা সময় লেগেছিল ইতালির শহরটার। কিন্তু ঘরে-ঘরে দিয়েগোর চলে যাওয়ার খবর পৌঁছে যেতেই ন্যাপেলসের অলিগলি থেকে মানুষ ভিড় জমাতে শুরু করেন রাজপথে। আজ থেকে তিন দশকেরও বেশি সময় আগে যার হাত ধরে প্রথম ইতালি সেরা হয়েছিল শহরের ক্লাব (নাপোলি), সেই দিয়েগোর চলে যাওয়া ন্যাপেলসের মানুষের কাছে স্বজন হারানোর বেদনার থেকে কোনও অংশে কম নয়।

অতিমারীর সেকেন্ড ওয়েভের জেরে ন্যাপেলসে চলছে দ্বিতীয় দফার লকডাউন। কিন্তু শহরের ঘরে-ঘরে যে মানুষটি পূজিত হন তাঁর না ফেরার দেশে চলে যাওয়ার খবর শুনে লকডাউনের বিধিনিষেধ উপেক্ষা করল ন্যাপেলসের মানুষ। ‘মারাদোনা এক এবং অদ্বিতীয়’ একদল অনুরাগী এমনই বুলি আওড়াচ্ছিলেন মোমবাতির শিখার সামনে দাঁড়িয়ে আর আকাশের দিকে চেয়ে তাঁদের প্রিয় নায়ককে অনুকরণ করছিলেন। দিয়েগো আর্মান্দো নামে স্থানীয় এক অনুরাগী তাঁর সচিত্র পরিচয় পত্র তুলে ধরে জানাচ্ছিলেন প্রিয় নায়ককে ভালোবেসে তাঁর বাবা-মা ছেলের নাম রেখেছেন মারাদোনার নামে। দিয়েগো আর্মান্দো বলছিলেন, ‘উনি (মারাদোনা) এই শহরের প্রতীক। আমাদের নায়ক। বিশ্বের দরবারে ন্যাপেলস পরিচিতি পেয়েছে ফুটবল এবং মারাদোনার জন্যই।’

এখানেই শেষ নয় স্থানীয় ওই মারাদোনা অনুরাগী কিছুটা দুঃখের সুরেই বলছিলেন, ‘আমরা দুঃখিত এটা ভেবে যে উনি নিজেই নিজের খেয়াল রাখেননি। কিন্তু তবুও আমরা আমাদের মতো করে ভালোবাসি ওনাকে।’ কিন্তু ভিনদেশী দিয়েগো আর্মান্দো মারাদোনার জন্য কীসের এত আবেগ ন্যাপেলসবাসীর? উনি তো আর্জেন্তিনার ভূমিপুত্র। ১৯৮৬ একার কাঁধে বিশ্বকাপ দিয়েছেন আর্জেন্তিনাকে, তাহলে?

সালটা ১৯৮৪। বার্সেলোনা ছেড়ে ন্যাপেলসে আগমণ ঘটেছিল বছর তেইশের মারাদোনার। নাপোলি তখন ছন্দহীন, দেশের প্রিমিয়র ডিভিশন ফুটবল লিগে টিকে থাকার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে। দিয়েগো আসতেই যেন কোনও এক জাদুকাঠির ছোঁয়ায় বদলে গেল সবকিছু। আর্জেন্তিনাকে বিশ্বকাপ এনে দেওয়ার পরের বছরেই মারাদোনা ইতালি সেরা করলেন নাপোলিকে। ১৯৯০ আবার সেরা নাপোলি। মাঝে ১৯৮৮-৮৯ উয়েফা কাপ ঘরে এসেছিল ইতালির ক্লাবটির। ব্যস মারাদোনার হাত ধরে ওইটুকুই। এরপর থেকে আজও নাপোলি তাঁর হৃত সম্মান পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে।

সালভাতোর এসপোসিতো, ন্যাপেলসের স্থানীয় টেলিভিশন তারকা স্থানীয় একটি টেলিভিশন চ্যানেলে বলছিলেন, ‘উনি (মারাদোনা) ফুটবল ঈশ্বর। আমাদের শহরতলির বাচ্চা ছেলেগুলো আজও বড় ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন দেখে দিয়েগোর জন্য। ‘ ন্যাপেলসের মেয়র লুইগি দি ম্যাজিস্ট্রিস নাপোলি স্টেডিয়ামকে দিয়েগোর নামে নামাঙ্কিত করার কথা ঘোষণা করেছেন।

তবে ন্যাপেলসে বা নাপোলি ক্লাবে মারাদোনার অভ্যর্থনা যতোটা জমকালো ছিল, নাপোলি ছেড়ে আর্জেন্তাইনের ফেরাটা ছিল কার্যত চুপিসারে রাতের অন্ধকারে। ১৯৯১ ডোপ টেস্টে ধরা পড়ে ফুটবল থেকে ১৫ মাস নির্বাসিত হয়েছিলেন দিয়েগো। আদালতের নির্দেশে নাপোলি ছাড়ার পরেও বছরের পর বছর ধরে দিয়েগো ন্যাপেলসের বিভিন্নস্থানে তাঁর রেখে যাওয়া বকেয়া শোধ করে গিয়েছেন। কিন্তু তাঁর দোষ-ত্রুটি শহরের মানুষ কখনও মনে রাখেনি। সব মার্জনা করে দিয়ে মারাদোনা আজও ঈশ্বররূপে পূজিত হন সেখানকার বাড়ির জানালায়। নাপোলি ক্লাবের মুখপাত্র নিকোলা লোম্বার্ডো জানান, ‘আমরা বিধ্বস্ত। মনে হচ্ছে যেন একজন বক্সার রিং থেকে ছিটকে গিয়েছেন। আমরা এখনও ঘোরের মধ্যে। আমরা আজ পরিবারের একজনকে হারালাম।’

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

কোনগুলো শিশু নির্যাতন এবং কিভাবে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো যায়। জানাচ্ছেন শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞ সত্য গোপাল দে।