স্টাফ রিপোর্টার, নন্দীগ্রাম: নন্দীগ্রামের ভূমি আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ২০০৭ সালে তৈরি হয়েছিল, বাংলার ইতিহাসের অন্যতম এক অধ‍্যায়। যেভাবে হার্মাদদের হাতে শহীদ হয়েছিলেন নন্দীগ্রামের একাধিক কৃষক। বর্তমানে তাঁরা আজও জেলার ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে রয়েছেন। আর এই ভূমি আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নন্দীগ্রাম রণক্ষেত্র হয়ে ওঠার ঘটনায়, ফের তৎকালীন সিপিএম নেতা লক্ষ্মণ শেঠকে নাম না করে আক্রমণ করলেন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

মঙ্গলবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রামের সোনাচূড়ার এই জমি রক্ষা আন্দোলনের, এক শহীদ স্মরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন রাজ্যের পরিবহন, জলসম্পদ উন্নয়ন ও সেচ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিনের শহীদ স্মরণ অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকেই নন্দীগ্রাম আন্দোলনের মূল দোষী হিসেবে তৎকালীন সাংসদ তথা সিপিএম নেতা লক্ষ্মণ শেঠকে নাম না করে নিশানা করেন শুভেন্দু অধিকারী।

এদিন তিনি বলেন, “আপনারা জানেন ২০০৭ সালের ৬ই জানুয়ারি হলদিয়ার হেলিপ্যাড ময়দানে হলদিয়া উৎসব হচ্ছিল। সেই সময় তৎকালীন বেতাজ বাদশা যিনি বলেন, তার নামে বাঘে গরুতে এক ঘাটে জল খায়। তিনি সেখান থেকে নির্দেশ দিয়েছিলেন নন্দীগ্রামের লোক খুব বাড় বেড়েছে। তারা কেমিক্যাল হাব তৈরি করতে বাধা দিয়ে আমাদের চিঠি ছিড়ে ফেলে দিয়েছে এবং পঞ্চায়েত অফিস ঘেরাও করছে। তাই তাদের শিক্ষা দিতে হবে।”

এর আগেও, মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম আন্দোলনের ঘটনায় একাধিকবার লক্ষ্মণ শেঠের দিকেই অভিযোগের আঙ্গুল তুলেছিলেন। এরপর মঙ্গলবার শহীদ স্মরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে নাম না করেই তার দিকেই নিশানা করলেন এদিন। ২০০৭ সালের ৭ জানুয়ারি হার্মাদদের আক্রমণে সকালের সূর্য ওঠার আগে শহীদ হয়েছিলেন, ভরত মণ্ডল, বিশ্বজিৎ মাইতি, শেখ সেলিমরা।

আর তাঁদের এই শহীদ হওয়াকে স্মরণ করে ২০০৮ সাল থেকে নন্দীগ্রামে সূর্য ওঠার আগে পালন হয়ে আসছে শহীদ স্মরণ অনুষ্ঠান। আর এই অনুষ্ঠানেই, মঙ্গলবার সূর্য ওঠার আগে শহীদ বেদীতে মাল্যদান করেন শুভেন্দু। এদিন মন্ত্রী শুভেন্দু ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নন্দীগ্রাম আন্দোলনের অন্যতম সদস্য আবু তাহের, সেক সুফিয়ান, ফিরোজা বিবি সহ খেজুরির বিধায়ক রনজিত মন্ডল এবং অন্য অন্যরা।

মঙ্গলবার সকালে সূর্য ওঠার আগেই শুভেন্দুবাবু নন্দীগ্রামের শহীদ হওয়া একাধিক শহীদ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভাঙাবেড়িয়া থেকে সোনাচূড়া পর্যন্ত মোমবাতি নিয়ে মিছিল করেন। এবং শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন। এরপর শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা জানানোর পর সেখানে শহীদ স্মরণ মঞ্চে তিনি বক্তব্য রাখেন।

এদিন তিনি ২০০৮ সালের প্রথম শহীদ স্মরণের কথা উল্লেখ করে বলেন, “২০০৮ সালে আমরা শহীদ বেদী তৈরি করতে এসেছিলাম। কিন্তু, তখন আমাদের শহীদ বেদী তৈরি করতে দেওয়া হয়নি। তখন আমরা রিকশার উপর কঞ্চি কেটে যেমনভাবে ছোট বাচ্চারা রথ বানায়, সেভাবে রথ বানিয়ে প্রথম হাতে গোনা কয়েকজন মানুষ নিয়ে শহীদ স্মরণ করেছিলাম। বোম ফাটাচ্ছিল আমাদের থাকতে দেয়নি। তাও আমরা প্রায় ১৫মিনিট থেকে শহীদ স্মরণ করেছিলাম।”

এদিন নন্দীগ্রাম আন্দোলনের ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নিয়ে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “অজস্র মিথ্যা মামলায় আমাদের আন্দোলনকারীদের যুক্ত করা হয়েছে। আশ্চর্যজনক হলেও ১৪ই মার্চের ঘটনায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল কিন্তু তৎকালীন সরকার আটকে দিলেও এই সরকার এসে তার করেছে। কিন্তু চার্জশিটে সিবিআই তরফ থেকে আন্দোলনকারীদের নাম দেওয়া হয়েছে উল্টে অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারদের বাঁচিয়ে দিয়ে গেছে।” মঙ্গলবার নন্দীগ্রামে শহীদ স্মরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নেতাইয়ে এক শহীদ স্মৃতি তর্পণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।