স্টাফ রিপোর্টার, তমলুক: দল বদল করেছেন৷ তাতেও মিলছে না রেহাই৷ যুক্তি দিয়ে দায় এড়ানোরও চেষ্টা করছেন৷ কে শোনে কার কথা৷ এক যুগ পরেও নন্দীগ্রামের স্মৃতি তাড়া করে বেড়াচ্ছে তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী লক্ষ্মণ শেঠকে৷

নন্দীগ্রাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘নন্দীগ্রাম কাণ্ডের সঙ্গে আমার কোন সম্পর্কই নেই। কারণ নন্দীগ্রামে মেগা কেমিকেল হাব হওয়ার যে সিদ্ধান্ত সেটা কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের ছিল।’’লক্ষ্মণ শেঠের সংযোজন, ‘‘নন্দীগ্রামের জমি অধিগ্রহণের যে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল তাতে হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদের আইনগত কোন অধিকার নেই।

তাহলে নোটিশ দেওয়ার প্রশ্নটা আসেই না। এগুলো গুজব ছড়িয়ে৷ একটা বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়েছিল যাতে শিল্পাঞ্চল না গড়ে ওঠে নন্দীগ্রামে।’’তাঁর দাবি, রাস্তা কেটে দেওয়া, একটা সেতু ভেঙে দেওয়া, ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা এটা কখনই গণ-আন্দোলনে হয় না। এটা মাওবাদীদের সহযোগিতায় সন্ত্রাসমূলক আন্দোলন ছিল।
অনেক দল পেরিয়ে শেষমেশ কংগ্রেসের টিকিটে রাজনৈতিক অস্তিত্ব ধরে রাখেছেন প্রাক্তন সিপিএম সাংসদ লক্ষ্মণ শেঠ। তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের জাতীয় কংগ্রেসের মনোনীত প্রার্থী লক্ষ্মণ শেঠের সমর্থনে নির্বাচনী প্রস্তুতি সভা হল মঙ্গলবার।

আরও পড়ুন: ‘স্বার্থ-সংঘাত’ ইস্যুতে সৌরভকে নোটিশ ধরাল বোর্ডের এথিক্স কমিটি

একদা পুঁজিবাদী দলের হয়েই সওয়াল করছেন এককালের সর্বহারা দলের আদর্শে বিশ্বাসী হলদিয়ার ‘বেতাজ বাদশা’৷ এদিন তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ‘‘কংগ্রেস পার্টির মধ্যে কোন ক্ষোভ-বিক্ষোভ নেই। তমলুক লোকসভা আসনে কংগ্রেস জিতবে।’’ ভোট প্রচার সম্পর্কে বলেন, ‘‘প্রচার টুকিটাকি হচ্ছে। তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের কর্মীদের নিয়ে কর্মীসভা হবে। তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের নন্দীগ্রাম-সহ সর্বত্রই ভোট প্রচারে যাব। আমার কেউ মূল প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। সকলেই প্রতিদ্বন্দ্বী। আর সকলকেই হারাতে চাই। পঞ্চায়েত ভোটে ভোট আদৌ হয়নি।’’

আরও পড়ুন: ব্রিগেড ভরাতে ট্রেন ভাড়া করে কর্মী, সমর্থক আনছে বিজেপি

সিপিএম থেকে বহিষ্কারের পর নিজে দল গড়েছেন৷ তারপর বিজেপি ঘুরে টাঁই নিয়েছেন হাত শিবিরে৷ এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘নিজে ‘ভারত নির্মাণ পার্টি’ তৈরি করেছিলাম। সেটা তুলেই দিলাম ভারতবর্ষের জাতীয় দলের কথা ভেবে। তাই বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলাম। কিন্তু আমি বিজেপির কোন নেতা বা পদাধিকারী ছিলাম না। এমনী-ই জুড়েছিলাম। এখন কংগ্রেসে আমি যুক্ত হয়েছি। সুতরাং স্বাভাবিকভাবে একে ‘দলবদল’ বলে না। পরিবেশ পরিস্থিতি অনুযায়ী আমি কংগ্রেসে যুক্ত হয়েছি। বিজেপিতে যোগ দিয়ে আমি খুবই ভুল করেছিলাম। আর কোনও পদই যখন ছিল না, কি দলে যুক্ত হওয়া কি না হওয়া তার কি মানে আছে?

আমার পরিচয় দেওয়াটা তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের মানুষের কাছে খুব বেশি প্রয়োজন বলে আমি মনে করি না। কেউ আমাকে নামে চেনে, আবার কেউ আমাকে ব্যক্তিগতভাবে চেনে। কারণ আমি তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের তিন বারের সাংসদ। তাই স্বাভাবিকভাবে বহু দিন ধরে তমলুকের নাগরিকদের কাছে ও ভোটারদের সঙ্গে আমার পরিচয়। সেইজন্য জয় আমার হবেই।

পতাকার রং পালটেছেন৷ হলদি নদী দিয়ে বয়ে গিয়েছে অনেক জল৷ কংগ্রেসের মধ্যে তাঁকে নিয়ে বিরোধ রয়েছে৷ তবে অতীতকে পুঁজি করেই সংসদ ভবনে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন লক্ষ্ণণ৷ কিন্তু মানুষ কী তাঁকে সেই সুযোগ করে দেওয়ার কথা ভাবছে? লাখ টাকার প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে শিল্প শহরের আনাচে-কানাচে৷