কলকাতা: বিজেপির গণতন্ত্র যাত্রার জনসভায় বক্তার তালিকায় গায়ক কুমার শানুর নাম ঘিরে বিতর্ক৷ অনুমতি ছাড়া সভার বক্তা হিসাবে কীভাবে আয়োজকরা তাঁর নাম ব্যবহার করলেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন খোদ গায়ক কুমর শানু৷ এর পিছনে ষড়যন্ত্রে অভিযোগ তুললেন প্রখ্যাত ওই গায়ক৷ পাল্টা, রাজ্য বিজেপির দাবি সংগঠনে যোগ দেওয়ার জন্যই কুমার শানুকে দলীয় কর্মসূচিতে বক্তা হিসাবে চাওয়া হয়৷

আরও পড়ুন: গোহত্যা নিয়ে উত্তপ্ত বুন্দেলশহর, মৃত পুলিশ

রথের চাকা গড়ায়নি৷ তার আগেই গেরিয়া বাহিনীর রথযাত্রা ঘিরে যত বিতর্ক৷ রাজ্য সরকারের অনুমতি মেলেনি৷ তার মধ্যেই কর্মসূচির বদল৷ বাঙালির ভাবাবেগকে মান্যতা দিয়ে ‘রথযাত্রা’ কর্মসূচি পাল্টে হয়ে গেল ‘গণতন্দ্র যাত্রা’৷ তাতেও রেহাই নেই৷ এবার বিতর্ক গণতন্দ্র যাত্রা কর্মসূচির জনসভায় গায়ক কুমার শানুর নাম ব্যবহার নিয়ে৷ আয়োজকদের তরফে জানানো হয় আগামী ১৬ ও ২৬সে ডিসেম্বর যথাক্রমে শিলিগুড়ি এবং শ্রীরামপুরে সভায় বক্তব্য রাখবেন গায়ক কুমার শানু৷

খবর প্রচার হতেই বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হতে দেখা যায় তুমার শানুকে৷ তিনি বলেন, ‘‘তাঁর সঙ্গে কোনও নেতার কথা হয়নি৷ অনুমতি না নিয়েই বক্তার তালিকায় নাম দেওয়া হয়েছে৷ নিজেদের ইচ্ছা মতো এই ধরণের কাজ করেছেন বিজেপি৷’’

আরও পড়ুন: লাল সিঁদুর, চোখে শেডস্, ভাইরাল মিসেস জোনাসের ছবি

২০১২ সালে ঘটা করে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন গায়ক কুমার শানু৷ তাঁর কথায়, ‘‘অনাথ শিশুদের জন্য কলকাতা ও দিল্লিতে স্কুল তৈরি করি৷ তার সাহায্যের জন্যই তখন নাম লিখিয়েছিলাম বিজেপিতে৷ তারপর কোনও সাহায্য পাওয়া যায়নি৷’’ মোহভঙ্গ হতেই দল ছেড়ে দিয়েছেন বলে দাবি করেন গায়ক৷ অন্যদের কাছে তাঁর সম্মানহানি করতেই এই ধরণের ভুল বলে মনে করছেন শানু৷ আশঙ্কা করছেন ষড়যন্ত্রের৷ কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তিনি যুক্ত নন বলে দাবি করেন গায়ক৷

কুমার শানুর প্রতিক্রিয়ায় হতবাক মুরলীধর সেন লেনের নেতারা৷ রাজ্য বিজেপির সম্পাদক সায়ন্তন বসু জানান, ‘‘তিনি আসবেন না কেন জানা নেই, তবে কুমার শানু বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন বলেই তাকে বক্তার তালিকায় চাওয়া হয় রাজ্য সংগঠনের পক্ষ থেকে৷’’

আরও পড়ুন: ধর্মঘট স্থগিত রাখল বিএসএনএল

কলেবরে বাড়ছে সংগঠন৷ কিন্তু তাদের কর্মসূচি ঘিরে বিতর্ক থামছে না৷ কারা বক্তব্য রাখবেন, কে দলের সঙ্গে আছে বা নেই, সে সম্পর্কেই প্রায় অন্ধকারে রাজ্য বিজেপি নেতারা৷ ফলে বক্তার তালিকায় নাম ঘোষণা করেও পিছিয়ে আসতে হচ্ছে তাদের৷ প্রশ্ন উঠছে সুচারু পদ্ধতিতে পরিচালিত সংগঠনের এই হাল কেন? অস্বস্তি বাড়ছে গেরুয়া বাহিনীর৷ সব দেখে কটাক্ষের হাসি শাসক তৃণমূলের৷