মোদী সরকারের মদতে উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন শহর ও স্টেশনের নাম পরিবর্তন করছে যোগী আদিত্যনাথ৷ তার এই প্রচেষ্টা বিরোধীদের সমালোচনার মুখে পড়েছে৷ অনেকেই বলেছেন ভোটের আগে এসব করে ইচ্ছে করেই সাম্প্রদায়িক টানপোড়েন বাড়াচ্ছে মোদী সরকার৷ দেশের গৈরিকীকরণ করতে চাইছে আরএসএস এ বিজেপি বলেও সমালোচনা শুরর হয়েছে রাজনৈতিক মহলে৷ তবে এসবের সঙ্গে একেবারেই সহমত নন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপিকা তানভীর নাসরীন। Kolkata24x7-এর প্রতিনিধি শেখর দুবে দেওয়া সাক্ষাতকারে নাসরীন নিজের মত তুলে ধরলেন৷

ইতিহাসের অধ্যাপিকা বলেন, এই বিষয়টিই অপ্রাসঙ্গিক৷ আমি দুটো উদাহরণ দিই, বীরভূমে একটি স্টেশন রয়েছে আহমদপুর লোকমুখে এটা হয়ে গেছে আমোদপুর৷ ঠিক তেমনই গুজরাটের আহমেদাবাদও আমাদের বাংলার একটি সংবাদপত্রের দৌলতে হয়ে গিয়েছে আমেদাবাদ৷ ইতিহাসে কোন নাম টিকে থাকবে আর কোন নাম বিলুপ্ত হবে তা মানুষই ঠিক করবে৷

এই নাম পরিবর্তন নতুন কিছু নয়৷ যে দল যখন ক্ষমতায় এসেছে নিজেদের আদর্শের লোকদের জন সমক্ষে তুলে ধরেতে চেয়েছে৷ ইতিহাস ঘাঁটলেই বোঝা যাবে প্রাচীনকাল থেকেই এই রীতি চলে আসছে৷ এতে খারাপের কিছু নেই ৷ কয়েকটা জায়গার নাম পরিবর্তন হচ্ছে মানেই যে ভারতবর্ষের গৈরিকীকরণ হয়ে যাচ্ছে হিন্দুত্ববাদী করে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে এমনটা নয়৷

কংগ্রেসের রাজত্বে প্রতিটা বড় শহরে জওহরলাল নেহরু , মহাত্মা গান্ধীর নামে রাস্তা রয়েছে৷ সরকার পরিবর্তনের ফলে বরং নতুন কিছু নাম জানা যাচ্ছে৷ আগে তো মনেই হত না নেহরু-গান্ধী ছাড়া দেশে আর কোনও কীর্তিমান পুরুষ কিংবা মহিলা জন্মেছেন৷ সেন্ট পিটার্সবার্গ, লেনিনগ্রাদ হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত পূর্ব নামে ফিরে গেছে৷ হয়ত দেখা গেল আগামী দিনে অন্য সরকার এসে দীনদয়ালের নামটাও পরিবর্তন করে দিলেন৷

জায়াগার নাম পরিবর্তন আর কারও পদবী পরিবর্তন কখনোই এক নয়৷ আমরা কাউকে কখনোই পদবী পরিবর্তনের জন্য বলতে পারি না৷ জানি না ইরফান হাবিব কীভাবে এই রকম একটি হাস্যকর মন্তব্য করলেন৷ অবশ্যই শাহ পদবীর জন্ম পারষ্যে৷ তালুকদার পদবী মোঘল আমলের৷ কিন্তু মোঘল আমলের বলেই পদবী পরিবর্তন করা যায় না৷ মোঘলসরাইয়ের নাম পরিবর্তনের মধ্যে আমি কোনরকম অন্যায় দেখি না৷ একটা জায়গার নাম আহমেদাবাদ হল কীভাবে সেটাও তো দেখতে হবে৷

(মতামত লেখিকার নিজস্ব৷ লেখিকা বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপিকা৷ অনুলিখন শেখর দুবে৷ )

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।