লখনউ: নমাজ পড়ায় নিষেধাজ্ঞা জারি করল পুলিশ৷ উত্তরপ্রদেশের কোথাও প্রকাশ্যে বা রাস্তা আটকে পড়া যাবে না নমাজ৷ এমনই নির্দেশিকা জারি করল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ৷ ইউপি পুলিশের ডিজিপি ওমপ্রকাশ সিং জানিয়েছেন রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় নমাজ পড়া হয়৷ কিন্তু প্রকাশ্যে নমাজ পড়ার ফলে সাধারণ মানুষের অসুবিধা হয়৷ তাই খোলা জায়গায় নমাজ পড়া যাবে না বলে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে৷

ডিজিপি জানিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের প্রতিটি জেলার জন্যই এই নির্দেশিকা প্রযোজ্য৷ তবে আলিগড় ও মীরট এলাকায় এই নিয়ে নজরদারি চালাবে পুলিশ৷ ২০১৮ সালের ডিসেম্বরেও গৌতম বুদ্ধ নগরে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়৷ বলা হয়েছিল মুসলিমরা রাস্তায় নমাজ পড়েন৷ তাই তার পাল্টা হিসেবে প্রতি শনি ও মঙ্গলবার রাস্তায় বসে হনুমান চাল্লিশা পাঠ করছিল কয়েকটি হিন্দু সংগঠন। একই সঙ্গে মহা আরতিও করা হচ্ছিল। দুই ধর্মের মধ্যে এমন রেষারেষির পরিস্থিতির কারণে সব ধর্মীয় অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন : ভারতকে যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়ে স্বাধীনতা দিবস পালন পাক প্রধানমন্ত্রীর

আলিগড়ের জেলা প্রশাসক সি বি সিং জানিয়ে ছিলেন, আগাম অনুমতি ছাড়া রাস্তার উপর শুক্রবারের নামাজ আদায়েও এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তাঁর মতে, প্রত্যেকেরই তাদের নিজেদের ধর্মীয় আচার পালনের অধিকার রয়েছে। তবে তা তাঁরা করবেন নিজেদের ধর্মীয় স্থানে, রাস্তার ওপর নয়। রাস্তায় ধর্মীয় কার্যকলাপ পালন করা হলে তাতে আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হতে পারে।

তবে পুলিশের এই নির্দেশিকা বিতর্ক উসকে দিয়েছে৷ সেই বিতর্ক ধামাচাপা দিতেই ফের বিবৃতি রেখেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ৷ জানানো হয়েছে, শুধু নমাজ নয় বা বিশেষ ধর্মের জন্য এই নির্দেশিকা জারি করা হয়নি৷ সব ধর্মের ক্ষেত্রেই এটা প্রযোজ্য হবে৷ প্রকাশ্যে কোনও ধর্মাচারণ করা যাবে না বলে জানানো হয়েছে৷

তবে এতে শেষরক্ষা হয়নি৷ বিরোধীরা ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন এই ইস্যুতে৷ এআইএমআইএম প্রধান আসাদ্দুদিন ওয়াসি জানিয়েছেন মুসলিমরা চিরকালই বঞ্চনার শিকার৷ জোরজবরদস্তি করছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ৷