সুভাষ বৈদ্য, কলকাতা: নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল আইনে পরিণত হওয়ার পর থেকেই তীব্র আন্দোলনে রক্তাক্ত অসম। ত্রিপুরা-মেঘালয়ের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি। এই আন্দোলন নিয়ে মুখ খুললেন নাখোদা মসজিদের ইমাম শফিক কাশমি৷ তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ও এনআরসি প্রত্যাহার করুক৷ রবিবার ঝাড়খণ্ডের দুমকায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নির্বাচনী জনসভা করেন।

তিনি বলেন, নাগরিকত্ব আইনের সংশোধন শরণার্থীদের জন্য বিশেষ কার্যকরী হবে। তাঁর কটাক্ষ, যারা আইনের বিরোধিতা করে আগুন ধরিয়েছেন তাদের পরিচয় স্পষ্ট হয়েছে। এদিকে আইনটির বিরোধিতা করে কলকাতা ২৪x৭ কে নাখোদা মসজিদের ইমাম শফিক কাশমি জানালেন, আপনাদের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন রাখছি নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ও এনআরসি প্রতাহারের৷ ইমাম বলেন, রাজ্যবাসীর কাছে আমার আবেদন, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করবেন না৷ আমি চাই না, ভারতীয় ভাই বোনের কারও কোনও ক্ষতি হোক৷

নাখোদা মসজিদের ইমাম বলেছেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বিরোধী আন্দোলনে বহিরাগতরা ঢুকে তাণ্ডব চালাচ্ছে৷ তবে আন্দোলন তো ঘরে বসে হয়না,তা রাস্তায় নেমেই হয়৷ তার ফলে হয়ত সাধারণ মানুষের সমস্যা হচ্ছে৷ যদিও একাধিকবার বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে সতর্কবার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবারও সকাল থেকে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় গণ্ডগোলের খবর এসেছে।

রবিবারও বিবৃতিতে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার বারবার বলা সত্বেও বহিরাগত শক্তি সাম্প্রদায়িক উস্কানিতে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় হিংসা ছড়ানো হচ্ছে।’ নিরুপায় হয়ে মুর্শিদাবাদ, মালদহ, উত্তর দিনাজপুর, হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগণার বসিরহাট, বাসতের বেশ কিছু জায়গায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন মমতা। ইতিমধ্যেই নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ঘিরে উত্তাল হয়েছে অসম,ত্রিপুরা-সহ উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলি।

সেখানেও হিংসা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার্থে ইন্টারনেট এবং মোবাইল পরিষেবার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সেই সব রাজ্য প্রশাসন। এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে আগামী সোমবার পর্যন্ত। আন্দোলনের আঁচ এসে পড়েছে পশ্চিম বাংলাতে৷ উত্তেজনা ছড়িয়েছে দিল্লিতে৷ রাজ্যের ৬টি জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় আগামী ২৪ ঘণ্টা ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন৷

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও