কলকাতাঃ ফের বড় ধাক্কা বিজেপির। নৈহাটি পুরসভা দখলে রাখল তৃণমূল। বনগাঁ, হালিশহর পুরসভার পর এবার নৈহাটি পুরসভাও হাতছাড়া হল বিজেপি। আস্থা ভোটে ২৪-০ ভোটে জয় পেল শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। রহস্য বাড়িয়ে এদিন আস্থাভোটে গরহাজির ছিলেন বিজেপির ৭ কাউন্সিলর। হঠাত করে কেন আস্থা ভোটে তাঁরা অংশ নিলেন না তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

যদিও এক কাউন্সিলের দাবি, শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশ মেনেই তাঁরা আস্থা ভোটে অংশ নেননি। যদিও বিজেপির তরফ এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে। তাঁদের পালটা দাবি, ভয় দেখিয়ে তাঁদের আটকে রাখা হয়েছিল। সর্বত্র বিজেপি নেতা কর্মীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। এক্ষেত্রেও মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে বিজেপি কাউন্সিলরদের আস্থা ভোটের ভিড়তে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ বিজেপির। যদিও সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। পালটা দাবি, সাধারণ মানুষ এখনও যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই রয়েছে তা আবার প্রমাণিত হল।

উল্লেখ্য, উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসকের কার্যালয়ে আজ বুধবার নৈহাটির তৃণমূল পুরপ্রধানের শক্তিপরীক্ষা হয়। আস্থা ভোট ঘিরে বারাসাতে জেলাশাসকের কার্যালয়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। যে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গোটা এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী।

নৈহাটি পুরসভায় মোট আসন ৩১টি। চেয়ারম্যান অশোক চট্টোপাধ্যায়। ২৪ জন কাউন্সিলর তাঁদের পক্ষে আছে বলে আগেই দাবি করে তৃণমূল। গত ২৩ মে লোকসভা ভোটের ফলপ্রকাশের পর ১৯ জন কাউন্সিলর বিজেপিতে যোগ দান করেন। এর পরই ১৮ জন কাউন্সিলর অনাস্থা প্রস্তাব আনেন। তড়িঘড়ি পুরসভায় প্রশাসক বসায় রাজ্য সরকার।

এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে যায় বিজেপি। ২৫ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের রায়ে বলা হয় জেলাশাসকের উপস্থিতিতে আস্থা ভোট করতে হবে। এর পরই ৩০ সেপ্টেম্বর জেলাশাসককে চিঠি দেন তৃণমূল পুরপ্রধান। আজ আস্থা ভোটের দিন স্থির করেন জেলাশাসক। সেই আস্থাভোটে বিজেপিকে বড় ধাক্কা দিল তৃণমূল।