বারাকপুর: ‘মৃত’ ব‍্যক্তি হঠাৎ ফিরে এলেন তাঁরই বাড়িতে। পরিবারের লোকজন তাঁকে দেখেই আঁতকে উঠলেন। গোটা ঘটনায় প্রতিবেশীরাও রীতিমতো স্তম্ভিত। শুক্রবার রাতে এমনই একটি ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায় উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটির সাহেব কলোনি মোড় সংলগ্ন পূর্নানন্দপল্লিতে।

মাস খানেক আগেই মৃত বলে ঘোষিত ভূষণচন্দ্র পালের দাহ ও শ্রাদ্ধানুষ্ঠান করেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু তিনি যে মারা যাননি, তাঁর প্রমাণ বাড়িতে ফিরে নিজেই দিলেন ভূষণচন্দ্রবাবু। কয়েক মাস নিখোঁজ থাকার পর বাড়ি ফিরে নিজের ঘরে ঢুকে পড়লেন মানসিক ভারসাম্যহীন বছর সত্তরের ওই বৃদ্ধ। কোনও ভৌতিক ঘটনা ঘটেনি।

মাস তিনেক আগে পথ হারিয়ে ট্রেনে চেপে দিল্লি চলে গিয়েছিলেন নৈহাটির বাসিন্দা ভূষণচন্দ্র পাল। গত নভেম্বর মাসের ১০ তারিখ থেকে নিখোঁজ হন মানসিক ভারসাম্যহীন ভূষণচন্দ্র পাল। প্রায় মাস খানেক খোঁজাখুঁজির পর পাল পরিবারের সদস্যরা নৈহাটি থানায় প্রথমে একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেছিলেন। তারপর বেশ কিছুদিন কেটে যাওয়ার পর নৈহাটি থানার পুলিশ অজ্ঞাতপরিচয় একটি মৃতদেহ উদ্ধার করে। ওই দেহটি নৈহাটি হাসপাতালেই রাখা হয়েছিল।

পাল পরিবারের সদস্যদের সেই দেহটি শনাক্ত করতে ডাকে নৈহাটি থানার পুলিশ। নিখোঁজ ভূষণচন্দ্র পালের পরিবারের সদস্যরাই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মৃতদেহ ভূষণবাবুর বলে পুলিশের সামনেই শনাক্ত করেছিলেন। তারপর সেই দেহটি পাল পরিবারের হাতে তুলে দেয় পুলিশ। মৃতদেহ দাহ করার পর হিন্দু শাস্ত্রানুযায়ী শ্রাদ্ধও হয় ভূষণচন্দ্র পালকে স্মরণ করে।

শুক্রবার রাতে হঠাৎই বাড়িতে ফেরেন ভূষণচন্দ্র পাল। প্রথমটায় হতচকিত হয়ে পড়েন পাল পরিবারের সদস্যরা। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই ফেরে সম্বিত। সব জেনে পাল পরিবারও আজ বেশ খুশি। দীর্ঘদিন পর ভূষণবাবু বাড়ি ফেরায় খুশি তাঁর প্রতিবেশীরাও। বহুদিন পর আবার নিজের বাড়িতে ফিরতে পেরে খুশি বৃদ্ধ ভূষণচন্দ্র পালও।

ভূষণবাবুর বাড়ি ফেরা প্রসঙ্গে কাউন্সিলর সনৎ দে জানান, ভূষণচন্দ্র পাল মানসিক ভারসাম্যহীন। পাল পরিবারের সদস্যরা অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মৃতদেহ ভুল করে শনাক্ত করেছিলেন। যাঁর দেহ সৎকার করা হয়েছিল, তিনি ভূষণবাবু ছিলেন না। নৈহাটির সাহেবকলোনি মোড় এলাকায় ভূষণচন্দ্র পাল তাঁর ভাইয়ের বাড়িতে থাকতেন। তাঁর নিজের পরিবার মেদিনীপুরে থাকে।

বাড়ি ফিরে ভূষণবাবু জানালেন, ভুল করে ট্রেনে উঠে দিল্লি চলে গিয়েছিলেন। পথ হারিয়ে ফেলেছিলেন। পরে আবার খুঁজতে খুঁজতে নিজের বাড়ি চলে আসেন। জানা গিয়েছে, গত জানুয়ারি মাসে ভূষণচন্দ্র পালের নাম করে নৈহাটির রামঘাটে দাহ করা হয়েছিল একটি অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির দেহ। এবার সেই ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।