প্রতীতি ঘোষ, ব্যারাকপুর: রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ পেলেন নৈহাটির ছাইঘাট এলাকার ক্ষতিগ্রস্তরা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই, নৈহাটিতে বাজির মশলা নিষ্ক্রিয় করতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের পাশে দাঁড়িয়ে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তাদের আর্থিক সহায়তা করলেন।

নৈহাটি ছাইঘাট এলাকার ১৫৬টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে শুক্রবার দুপুরে ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেওয়া হয়। নৈহাটি শহরের ত্রিকোণ পার্ক এলাকায় উত্তর ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই চেক প্রদান অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী তথা উত্তর ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূল সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, জেলা শাসক চৈতালী চক্রবর্তী, নৈহাটির বিধায়ক পার্থ ভৌমিক, বারাকপুরের পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা, নৈহাটি পুরসভার পুরপ্রধান অশোক চট্টোপাধ্যায়, বারাকপুরের মহকুমা শাসক আবুল কালাম আজাদ ইসলামের উপস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে চেক তুলে দেওয়া হয়।

এদিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে তাঁদের জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করায় খুশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা। রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বললেন, “আমি আমার জীবদ্দশায় এরকম মানবিক মুখ্যমন্ত্রী দেখিনি, যিনি এত দ্রুত নৈহাটির বাসিন্দাদের হাতে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দিলেন। মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং আমাকে ফোন করে বলেছিলেন, প্রশাসনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে শুক্রবারই যেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা চেক পান, সেই বিষয়টা দেখতে। তাঁর নির্দেশেই এই চেক প্রদান করা হল।

গত ৯ জানুয়ারি যখন মুখ্যমন্ত্রী বারাসাতে যাত্রা উৎসবের উদ্বোধন করতে এসেছিলেন, তখন তিনি নৈহাটি ছাই ঘাটের ঘটনার কথা জানতে পারেন, সেদিনই স্থানীয় বিধায়ক পার্থ ভৌমিক কে তিনি নির্দেশ দেন ওই দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী ঘোষনা করে ছিলেন ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে রাজ্য সরকার থাকবে। সেদিনের ঘোষণার এক সপ্তাহের মধ্যেই ক্ষতিপূরণের চেক হাতে পেলেন ক্ষতিগ্রস্তরা, খুশী আমরা সকলেই।”

জানা গিয়েছে, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মোট ১২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ বাবদ দেওয়া হয়েছে। সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা ৩৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ পেয়েছে। জেলা শাসক চৈতালী চক্রবর্তী জানিয়েছেন, যে পরিবারের বাড়ি যে রকম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, সেই পরিবার সেই রকম ক্ষতিপূরণ পেয়েছে।