কলকাতা : এখনও রাজ্যে তিন দফার নির্বাচন বাকি। তবে তার মধ্যেই আবার রাজ্য পুলিশ রদবদল ঘটালো নির্বাচন কমিশন । এবার বদলি করা হল পূর্ব বর্ধমান ও বীরভূম জেলার পুলিশ সুপারদের। সরিয়ে দেওয়া হল আসানসোল-দুর্গাপুরের পুলিশ কমিশনারকেও । বীরভূমের পুলিশ সুপারের দায়িত্বে নিয়ে আসা হল নন্দীগ্রামের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক নগেন্দ্রনাথ ত্রিপাঠীকে। যিনি গত ১ এপ্রিল, রাজ্যে দ্বিতীয় দফা ভোটের দিন হাই ভোল্টেজ নন্দীগ্রামের বুথে তৃণমূল সুপ্রিমোর চোখে চোখ রেখে নিজের দায়িত্বের পালন করেছিলেন। ভোটে অশান্তি রুখতে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নগেন্দ্রনাথ ত্রিপাঠী দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তাঁর খাকি উর্দিতে তিনি কোনও দাগ লাগতে দেবেন না। বীরভূম অনুব্রত মণ্ডলের গড়। তবে কী নির্বাচন কমিশন সেই জেলায় অশান্তির আঁচ পেয়েই নন্দীগ্রাম থেকে নগেন্দ্রনাথ ত্রিপাঠীকে বীরভূমে সরিয়ে আনল ?

২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচন শুরু হওয়ার আগেই নির্বাচনী বিধি মেনে একবার পুলিশ আধিকারিকদের রুটিন বদলি হয়েছিল। সেই সময় বীরভূমের এসপি শ্যাম সিংকে বদলি করে আনা হয়েছিল মীরাজ খালিদকে। ভোটের শেষ লগ্নেই আবার এই পদে বদল আনল কমিশন। এবার মীরাজ খালিদকে বীরভুলের পুলিশ সুপারের পদ থেকে সরিয়ে তাঁর জায়গায় আনা হল আইপিএস নগেন্দ্র ত্রিপাঠীকে। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মত, এই সিদ্ধান্ত থেকেই স্পষ্ট, উত্তেজনাপ্রবণ বীরভূম জেলাকে এবারের ভোটে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এই বীরভূমের তৃণমূলের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডলকে অবশ্য আগেই নজরবন্দি করেছে কমিশন। খেলা হবে স্লোগানের এই রাজ্যের প্রবক্তা অনুব্রত মণ্ডলের সমস্ত গতিবিধির ওপর নজর রাখছে নির্বাচন কমিশন। তাই রাজনৈতিক মহল মনে করে নগেন্দ্র ত্রিপাঠীকে বীরভূম জেলার দায়িত্ব দেওয়ার অন্যতম কারণ অনুব্রত মণ্ডল। বীরভূম জেলার ১১ টি কেন্দ্র ভোট শেষ দফায়, ২৯ এপ্রিল। শান্তিতে এই ১১টি বিধানসভায় নির্বাচন করা নির্বাচন কমিশনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

এদিকে পূর্ব বর্ধমানের ৮টি বিধানসভা কেন্দ্রেও আগামী ২২ এপ্রিল নির্বাচন । তার আগে সেখানেও পুলিশ সুপার বদলি করা হল তাৎপর্যপূর্ণভাবে। ভাস্কর মুখোপাধ্যায়ের বদলে দায়িত্ব আনা হল অজিত কুমার যাদবকে। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের সিপি ছিলেন সুকেশ জৈন। তাঁর বদলে এলেন মিতেশ জৈন। বোলপুরের নতুন এসডিপিও হলেন নাগরাজ দেবরাকোন্দা। তবে এতো কিছুর পরেও সব প্রচেষ্টা তখনই সফল হবে যখন বাকি তিন দফার নির্বাচন শান্তিতে, বিনা সংঘাতে শেষ হবে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.