রাঁচি: ‘লড়াই জারি রাখো, একদিন ওরা ঠিক তোমায় ডেকে পাঠাবে।’ ছেলেকে বারবার এই মন্ত্রেই অনুপ্রেরণা জুগিয়ে এসেছেন বাবা জাভেদ মাহমুদ। ১৫ বছর ঘরোয়া ক্রিকেটে নিঃশব্দে পারফর্ম করে যাওয়ার পর সম্প্রতি জাতীয় দলে ডাক পাওয়াটা তাই স্বপ্ন সত্যির এক অনাবিল আনন্দ লেগ-স্পিনার শাহবাজ নাদিমের কাছে। যদিও এই ডাক পাওয়াটাও একেবারেই আচমকা ছিল বছর তিরিশের ক্রিকেটারের কাছে।

শনিবার থেকে রাঁচিতে শুরু হয়েছে চলতি ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা তৃতীয় টেস্ট। প্রাথমিকভাবে অন্তিম টেস্টের জন্য কুলদীপকে ভাবা হলেও কাঁধের সমস্যার কারণে শেষমুহূর্তে রাঁচি টেস্টে অনিশ্চিত হয়ে পড়েন চায়নাম্যান বোলার। অগত্যা শুক্রবার দুপুরে ইলেভেন্থ আওয়ারে পরিবর্ত হিসেবে ডাক পড়ে ঝাড়খন্ড স্পিনারের। কলকাতায় নাদিম তখন নমাজে বসেছেন, হঠাতই বেজে ওঠে ফোনটা। নমাজ সেরে উঠে ফোন চেক করতেই তিনি দেখেন রাঁচি টেস্টের জন্য ডাক এসেছে তাঁর। কিন্তু এত স্বল্প সময়ে পৌঁছবেন কী করে? কলকাতা থেকে রাঁচি পৌঁছনোর সম্ভাব্য সমস্ত বিমানের টিকিট যে বুক। অগত্যা প্রায় ৪৫০ কিমি পথ পাড়ি দিতে সড়কপথকেই বেছে নিলেন রাঁচি টেস্টে অভিষেককারী।

তৃতীয়দিন খেলা শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে গড়গড় করে দেশের হয়ে প্রথম টেস্টে মাঠে নামার অভিজ্ঞতা শেয়ার করছিলেন নাদিম। মজা করেই বলে বসলেন, ‘এতবছর ক্রিকেট খেলার পর রাত ৪টেয় ফোন করে যদি তোমায় কেউ বলে সকাল ৬টায় ম্যাচ, তাহলেও তুমি ঠিক পৌঁছে যাবে।’ সত্যিই জাতীয় দলের জার্সিতে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার এমন অদম্য ইচ্ছা আর কঠিন অধ্যাবসায়ের ফলই অবশেষে হাতে পেলেন বিহারের মুজফফরপুরের এই ক্রিকেটার। ১৫ বছরের প্রতীক্ষার অবসান মিটল ১৪ ঘন্টার রোমাঞ্চকর জার্নিতে। ২০১৮ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ওয়ান-ডে ও টি-২০ দলে ডাক পেলেও ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। শেষমেষ অভিষেক ইনিংসে ২ উইকেট ঝুলিতে ভরে জাতীয় দলে যাত্রা শুরু করলেন নাদিম।

ভারতের ৪৯৭ রানের জবাবে সোমবার প্রথম ইনিংসে ১৬২ রানেই গুটিয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। আর দলের বাকি বোলারদের সঙ্গে ২ উইকেট নিয়ে সমান উজ্জ্বল সানরাইজার্স ফ্র্যাঞ্চাইজির স্পিন বিভাগের অন্যতম ভরসা। দক্ষিণ আফ্রিকার তেম্বা বাভুমাকে প্যাভিলিয়নে ফিরিয়ে সোমবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম উইকেটের স্বাদ পান নাদিম। প্রথম ইনিংসে তাঁর দ্বিতীয় শিকার অ্যানরিচ নর্তজে। তবে আবির্ভাব মঞ্চে প্রথম তিন বল বেশ নার্ভাস ছিলেন তিনি। সাংবাদিক সম্মেলনে নাদিম স্বীকার করে নিলেন সেকথা। কিন্তু আইপিএলের মত মঞ্চে দীর্ঘদিন খেলার অভিজ্ঞতা এক্ষেত্রে কাজে দিয়েছে বলে জানান তিনি। কারণ, ‘আইপিএল খেলার অভিজ্ঞতা তোমায় নার্ভ শিথিল রাখতে সাহায্য করে’, বলেন ১১০ প্রথম শ্রেণীর ম্যাচে ৪২৪ উইকেটের মালিক।