স্টাফ রিপোর্টার, কাঁচরাপাড়া: নৈহাটিতে কাঁঠালপাড়ায় বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মভিটে ঘুরে দেখলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা। এদিন বঙ্কিম ভবনে বিজেপি সভাপতি বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটান।  যেখানে বসে বন্দেমাতারম লিখেছিলেন ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র সেই ঘরটি ঘুরে দেখেন নাড্ডা। বঙ্কিম ভবনের ট্রাস্টি সদস্যদের সঙ্গে কথাও বলেন বিজেপির সর্ব ভারতীয় সভাপতি। তাঁকে সাহিত্যসম্রাটের লেখা কিছু বই দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে ট্রাস্টি সদস্যদের তরফে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ না করলেও এদিন জে পি নাড্ডার অভ্যর্থনায় কোনও ত্রুটি রাখল না রাজ্য সরকারের উচ্চ শিক্ষা দফতরের পরিপোষিত বঙ্কিম ভবন গবেষণা কেন্দ্র।

বঙ্কিম ভবন গবেষণা কেন্দ্রের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির হাতে স্মারক হিসেবে তুলে দেওয়া হল বন্দেমাতরম গানের দুর্লভ সিডি। যেখানে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দেওয়া সুরে গীত হয়েছে বন্দেমাতরম। এছাড়াও তুলে দেওয়া হবে ‘বন্দেমাতরম সুউৎস ও বৈচিত্র্য’ নামক একটি অমূল্য স্মারক পুস্তক। যেখানে বন্দেমাতরম-এর বিভিন্ন সুরের ইতিহাস লিপিবদ্ধ রয়েছে।

১৮৩৮ থেকে ১৮৭৯। জীবনের একটা লম্বা সময় এখানে কাটিয়েছেন কপালকুণ্ডলা, দেবী চৌধুরানী, আনন্দমঠ, দুর্গেশ নন্দিনীর মতো কালজয়ী লেখার প্রবক্তা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এদিন সাহিত্যসম্রাটের নিজের তৈরি বঙ্কিমচন্দ্রর বৈঠকখানাও দর্শন করেন জেপি নাড্ডা। কথিত আছে, এই বৈঠকখানায় বসেই ‘বন্দেমাতরম’ রচনা করেছিলেন সাহিত‍্য সম্রাট।

যে ভবনে বসে বঙ্কিমচন্দ্র ‘বন্দেমাতরম’ লিখেছিলেন, তার হাল নিয়ে সম্প্রতি ক্ষোভের কথা শোনান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। চুঁচুড়ায় মোদী অভিযোগ জানিয়ে বলেন, বর্তমান রাজ্য সরকার বাংলার মাটির সঙ্গে সম্পর্কিত মনীষীদের স্মৃতিরক্ষার্থে কিছুই করেনি। সেই প্রসঙ্গেই বন্দেমাতরম ভবনের কথা তোলেন। বলেন, তিনি শুনেছেন, বন্দেমাতরম ভবন, যেখানে বঙ্কিমচন্দ্র পাঁচ বছর ছিলেন, সেই ভবন খুব খারাপ অবস্থায় আছে। মোদীর কথায়, ‘‘সেই বন্দেমাতরম, যা স্বাধীনতার লড়াইতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছিল। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নতুন শক্তি জুগিয়েছিল। মাতৃভূমিকে সুজলা, সুফলা করতে প্রত্যেক দেশবাসীকে প্রেরণা জুগিয়েছিল। বন্দেমাতরম শব্দ গোলামির নিরাশায় বেঁচে থাকা দেশকে নতুন চেতনা এনে দিয়েছিল।’ এরপরেই হঠাত মোদীর মন্তব্যে তৈরি হয় বিতর্ক। একাংশের প্রশ্ন, না জেনে কীভাবে এহেন মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী?

বঙ্কিম ভবন গবেষণা কেন্দ্রের পক্ষ থেকে কিউরেটর গৌতম সরকার সংবাদমাধ্যমকে জানান, “রাজ্য সরকারের উচ্চ শিক্ষা দফতরের পৃষ্ঠপোষকতায় বঙ্কিম ভবন আজ সুরক্ষিত। নাড্ডাজি নিজের চোখে সেটা দেখে গেলে হয়তো বা সাহিত্যসম্রাটের জন্ম ভিটে নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটবে।” নাড্ডা এদিন বঙ্কিমচন্দ্রর জন্মভিটে ঘুরে দেখার পর তাঁদের ভুল ভেঙেছে বলেই মনে করছেন গবেষনা কেন্দ্রের সদস্যরা৷

এদিন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে নাড্ডাকে দেখতে ব্যাপক ভিড় ছিল মানুষের। প্রচুর বিজেপি কর্মী সমর্থকরা ভিড় জমান সকাল থেকেই। পালটা তৃণমূলের পতাকাতে মুড়ে দেওয়া হয় গোটা এলাকা। এদিন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে নাড্ডা বের হতেই জয় শ্রী রাম স্লোগান শোনা যায়। কেউ বা কারা এই স্লোগান দিতে থাকেন। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে এভাবে জয় শ্রী রাম স্লোগান দেওয়া নিয়ে অনেকই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ট্রাস্টির তরফে এই বিষয়ে কোনও কিছু বলা হয়নি।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।