মেলবোর্ন: রজার গতি স্তব্ধ করে পৌঁছেছিলেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শেষ আটে। শুধু তাই নয়, দেশের প্রথম টেনিস খেলোয়াড় হিসেবে কোনও গ্র্যান্ড স্ল্যাম কোয়ার্টারের যোগ্যতা অর্জন করে নজির গড়েছিলেন বছর কুড়ির ‘বিস্ময় বালক’। কোয়ার্টারেও জারি থাকে টেনিস সার্কিটে গ্রিক রূপকথার উত্থান। কিন্তু সেমিফাইনালে এসে দাঁড়ি পড়ল সেই স্বপ্নের উত্থানে।

রাফায়েল নাদালের কাছে হেরে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে শেষ হল স্তেফানোস সিতসিপাসের দৌড়। অন্যদিকে চোট কাটিয়ে কোর্টে ফিরে বছরের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনালে পৌঁছলেন স্প্যানিশ মায়েস্ত্রো রাফায়েল নাদাল। মেলবোর্ন পার্কে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে সিতসিপাসের ‘বিস্ময়’ পারফরম্যান্সের কোনও উত্তর ছিল না ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন তথা ২০ বারের গ্র্যান্ডস্লাম জয়ী রজার ফেডেরারের কাছে। কোয়ার্টারের লড়াইয়ে নাদালের দেশেরই রবার্তো বাতিস্তা অগাতকে হারিয়ে সেমিতে রাফার মুখোমুখি হন গ্রিক রূপকথার নায়ক।

শেষ চারে স্প্যানিশ কিংবদন্তির বিরুদ্ধে সিতসিপাসের এক উত্তেজক লড়াইয়ের অপেক্ষায় প্রহর গুনছিলেন টেনিস অনুরাগীরা। কিন্তু বৃহস্পতিবার রড লেভার এরিনায় ১৭টি গ্র্যান্ডস্লামজয়ীর সামনে দাঁড়াতেই পারলেন না স্তেফানোস। স্প্যানিশ মায়েস্ত্রোর কাছে স্ট্রেট সেটেই হেরে বসলেন টেনিসে গ্রিক উত্থানের নায়ক। নাদালের পক্ষে ম্যাচের ফল ৬-২, ৬-৪, ৬-০। অর্থাৎ কোনও সেট না খুঁইয়েই বছরের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনালে পৌঁছলেন তিনি।

২৫ তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালে ওঠার পথে বছর কুড়ির সিতসিপাসকে এদিন বিশেষ সুযোগই দেননি নাদাল। অ্যালেক্স ডি মিনার, ফ্রান্সেস টিয়াফোর পর এদিন পরবর্তী প্রজন্মের সিতসিপাসকে মাটি ধরিয়ে অভিজ্ঞতার দাম বুঝিয়ে দিলেন বত্রিশ বছরের নাদাল। অন্যদিকে স্ট্রেট সেটে ধরাশায়ী হয়ে ম্যাচ শেষে চতুর্দশ বাছাই গ্রিক রুপকথার নায়ক জানান, ‘নাদালের খেলার একটা আলাদা শৈলী রয়েছে। যা বিশ্বের অন্য কারও নেই। সেই শৈলীই আজ আমাকে খারাপ খেলতে বাধ্য করেছে।’

ম্যাচ জয়ের পর টিয়াফো-সিতসিপাসদের মত তরুণ প্রতিভাদের উদ্দেশ্যে রাফার বার্তা, ‘ওরা দিনে-দিনে উন্নতি করছে। প্রত্যেকেই প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দারুণ। ওদের বিরুদ্ধে খেলা সবসময়ই ভীষণ চ্যালেঞ্জের।’ দ্বিতীয়বার অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয়ের লক্ষ্যে ফাইনালে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রাফা পেতে পারেন জোকারকে।