স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী নচিকেতার গানে ‘কাটমানি’ অস্বস্তি বেড়েছিল তৃণমূলের৷ তারপর নানা বিতর্ক৷ প্রশ্ন উঠেছিল তাহলে কি শাসক দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন পরিবর্তন আন্দোলনের অন্যতম মুখ নচিকেতা? জবাবে গায়কের উত্তর ছিল, ‘এই গান সব দুর্নীতিপরায়ণ নেতাদের উদ্দেশ্য করে৷’

নচিকেতার গান নিয়ে বিতর্ক চরমে ওঠে৷ নানা জনের নানা কথা৷ নানা জল্পনা৷ কেনদ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর সহ্গে গায়কের জোর তরজা৷ তৃণমূল সুপ্রিমোর প্রতি তাঁর যে আস্থা অটুট তা অবশ্য স্পষ্ট করেছিলেন গায়ক৷ ‘কাটমানি’ গান নচিকেতা ও তৃণমূলের মাঝে দেওয়া হয়নি৷ ২১শে জুলাই মিলল তার নিদর্শন৷ শহিদ সমাবেশ মঞ্চ আলো করে বসে নচিকেতা৷ গাইলেন ‘আলোকের এই ঝরনা ধারায় ভরিয়ে দাও’৷ গায়ককে দেখে তৃপ্ত তৃণমূল নেতা, কর্মীরা৷ গায়কের মুখেও আলোর রেশ৷

‘কাটমানি’ বিতর্কে ঘরে বাইরে চাপে তৃণমূল৷ সেই অস্বস্তি আরও বাড়িয়েছিল শাসক দল ঘনিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী নচিকেতার গান৷ ‘কাটমানি’ নিয়ে গান বাঁধেন এক দশক আগে পরিবর্তনপন্থী এই শিল্পী৷ সুরে সুরে তিনি হুঁশিয়ারি দিলেন ‘কাটমানি’ নেওয়া জনপ্রতিনিধিদের৷

গিটার হাতে নচিকেতা গেয়েছেন, খেয়েছেন যারা কাটমানি, দাদারা অথবা দিদিমণি – এসেছে সময় গতিময়, দাঁত ক্যালাতে ক্যালাত ফেরৎ দিন৷ মন্ত্রী অথবা আমলা – জনরোষ এবার সামলা৷ তাঁর নিশানায় সর্বস্তরের জনপ্রতিনিধিরা৷

মুখ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ‘‘নির্দিষ্ট অভিযোগর ভিত্তিতে প্রশাসন তদন্ত করবে৷ অভিযোগ প্রমাণিত হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷’’ সেই সুরেই সুর মিলিয়েছেন নচিকেতা চক্রবর্তী৷ গানে তিনি বলেছেন, তুলবে চামড়াআসাধু দামড়া, বাতাসে বাজচ্ছে রুদ্র দিন৷ অর্থাৎ যারা কাটমানি নিয়েছে তাদের পরিণতি যে ভয়ঙ্কর তা বলতে ভোলেননি ‘বৃদ্ধাশ্রম’ গানের স্রষ্ঠা৷

এতদিন যারা করেছে সেলাম, ভয়েতে থেকেছে বাধ্য গোলাম – এখন তাদের মুখেতে প্রশ্ন, উত্তর আছে কী? সঙ্গীত শিল্পীর জিজ্ঞাস্য কাটমানি নেওয়া জনপ্রতিনিধি, আমলাদের কাছে৷ গানে তাঁর সংযোজন, লালবাতি জ্বলা গাড়ি চড়ো, মানুষকে বোকা মনে কর? সেই মানুষ আজ বাঁশ হাতে, তোমার পিছনটা ঢাকা কী?

কাটমানি নিয়ে সরকারি পরিষবার বিভিন্ন প্রকল্প পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘ দিনের৷ পরিবর্তনপন্থী এই সঙ্গিত শিল্পীর গানেও উঠে এসেছে সেই বিষয়টি৷ সুরে সুরে তিনি বলেছেন, খেটে মরে হাঁস, আপনারা ডিম খেয়ে যাচ্ছেন বহুদিন৷

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে গিটার হাতে কালো গোলগলা গেঞ্জি ও প্যান্ট পরিহিত নচিকেতা চক্রবর্তীর সেই গান৷ শনিবার সেই গানের ভিডিও নিজের ফসবুর অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়৷ লেখেন, ‘মানুষের মনের কথা গানের মাধ্যমে সঠিক মাত্রার ‘Sattire’-এর তড়কা লাগিয়ে সকলের সামনে নিয়ে আসার জন্য নচিকেতা-দাকে আমার অশেষ ধন্যবাদ৷’

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.