স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ‘মমতাদি’র থেকে ভাইফোঁটা নেওয়ার তিনদিনের মধ্যেই শোভন চট্টোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা ফিরিয়ে দিল নবান্ন৷ জানানো হয়েছে, আটজন নিরাপত্তারক্ষী পাবেন শোভন।

স্বাধীনতা দিবসের আগের দিন অর্থাৎ ১৪ অগস্ট দিল্লিতে বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নিয়েছেন শোভন চট্টোপাধ্যায় ও বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। গেরুয়া শিবিরে যোগ দিয়ে দিল্লি থেকে ফেরার পরই বেহালা পূর্বের বিধায়ক শোভন চট্টোপাধ্যায়ের নিরাপত্তার তুলে নেয় নবান্ন।

দীর্ঘদিন ধরে জেড ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পেতেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। কলকাতার মেয়র ও মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দিয়ে শোভন চট্টোপাধ্যায় যখন গোলপার্কের ফ্ল্যাটে স্বেচ্ছা নির্বাসন নিয়েছিলেন, তখনও ওয়াই প্লাস ক্যাটেগরির পুলিশি নিরাপত্তা ছিল তাঁর। কিন্তু দিল্লি থেকে ফেরার পর তাঁর সেই নিরাপত্তাও তুলে নেওয়া হয়েছিল৷ সেসময় শোভন দাবি করেন, তাঁকে অফিসিয়ালি না জানিয়েই তাঁর নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়েছে৷ ‘তুঘলকি ঘটনা’ বলে ঘুরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খোঁচা দেন তিনি৷

সেইসময় ক্ষুব্ধ শোভন বলেছিলেন, “কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলর নির্বাচিত হলে তাঁদের কোনও নিরাপত্তাবাহিনী থাকে না। কিন্তু আমার সেই সময় থেকে জীবনের ঝুঁকি ছিল বলে ১৯৯৫ সাল এবং তাঁর পরবর্তীতে আমাকে জেড প্লাস নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল। আমার আশ্চর্য লাগছে যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণেই গতকাল রাতে কোনও কিছু না জানিয়েই আমার পিএসও এবং রাজ্য সরকারের পুলিশদের উঠিয়ে নেওয়া হল। আমার আপত্তির কিছু নেই, কিন্তু কে বা কারা এটা করল? ২০১৮ সালে আমার নিরাপত্তা ওয়াই প্লাস ক্যাটেগরিতে আনা হয়েছিল। কিন্তু আমি বুঝতে পারছি না যে হঠাৎ কেন সম্পূর্ণ নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হলো? যে বা যাঁরা এই নিরাপত্তা দিয়েছিলেন, তাঁরাই হয়তো এর ব্যাখ্যা দিতে পারবেন।” অবশ্য রাজ্য সরকার নিরাপত্তা তুলে নিলেও কেন্দ্র সরকার নিরাপত্তা দেয় শোভনকে। এতদিন সেই নিরাপত্তা নিয়েই চলাফেরা করতেন প্রাক্তন মেয়র।

কিন্তু গত মঙ্গলবার ভাইফোঁটায় সকলকে চমকে দিয়েছেন দিদি-র এক কালের ‘কানন’৷ অভিমান ভুলে বান্ধবী বৈশাখীকে নিয়ে কালীঘাটে মমতার বাড়িতে যান শোভন। সূত্রের খবর, দিদিকে প্রণাম করেন তাঁর স্নেহের কানন তথা কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। শোভনকে ভুঁড়ি কমানোর পরামর্শ দেন মমতা। এমনকি কিছু ওষুধের কথাও বলেন। বেশ কয়েক ঘণ্টা দিদির বাড়িতেই ছিলেন শোভন-বৈশাখী। মমতা তাঁকে চারটে পাঞ্জাবী দিয়েছেন৷ শোভন দিয়েছেন দিদিকে দুটো শাড়ি৷ এমনকি দিদির পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন বৈশাখী। তারপর এক বাক্স চকোলেট দেন মমতাকে।

সূত্রের খবর, সেই আলোচনাতেই শোভনের নিরাপত্তার প্রসঙ্গ ওঠে। সে দিন রাতে গোয়েন্দা বিভাগের কিছু অফিসার শোভনের বাড়িতে গিয়ে নিরাপত্তার বিষয়ে আলোচনা করেন। তারপরেই শুক্রবার নবান্নর তরফে শোভনের নিরাপত্তা ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়। এ বার থেকে ফের রাজ্য সরকারের নিরাপত্তা পাবেন তিনি। এখন কেন্দ্র তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে কি সিদ্ধান্ত নেয় সেটাই দেখার৷

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও