কলকাতা: সম্ভাবনা জাগিয়েও বেরোল না সমাধানসূত্র৷ পাহাড় ইস্যুতে নিস্ফলা হল নবান্নের বৈঠক৷ ঢাকঢোক পিটিয়ে রাজ্যের পক্ষ থেকে সর্বদল বৈঠক ডাকা হলেও আলোচনা হল না পৃথক গোর্খাল্যান্ড রাজ্যের দাবি নিয়ে৷ বনধ নিয়েও হল না কোন আলোচনা৷ শুধু পাহাড়ের আইন-শৃঙ্খলার প্রসঙ্গই ঘোরাফেরা করল নবান্নের বহুতলে৷ সর্বদল বৈঠকে সমস্যা না মিটলেও পাহাড়ে লাগাতার বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্তের দাবি জানিয়ে আপাতত শান্ত হতে হল গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা, জন আন্দোলন পার্টি ও গোর্খা ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মির প্রতিনিধি দলের সদস্যদের৷ রয়ে গেল পাহাড়ের অচলাবস্থা৷ পরের সর্বদলীয় বৈঠক আগামী ১২ সেপ্টেম্বর শিলিগুড়ির উত্তরকন্যাতে৷

নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিনের এই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মোর্চা নেতাদের মুখ থেকে পৃথক রাজ্যের দাবির কথা শুনতে চাননি৷ রাজ্যের তরফে এদিন সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, পৃথক রাজ্যের বিতর্কিত দাবি নিয়ে আলোচনা করা হবে না৷ গোর্খাল্যান্ডের দাবি নিয়ে আলোচনা না হওয়ায় বেশ আশাহত হন মোর্চা, জ্যাপ, জিএনএলএফের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা৷ যেহেতু, খোর্গাল্যাণ্ডের দাবি আলোচনা না হওয়ায় পাহাড়ে বনধ তুলে নেওয়ার প্রসঙ্গেও আলোচনা করা হয়নি৷ ফলে, বনধ নিয়ে রফাসূত্র বেরিয়ে না আসায় আরও প্রায় ১৫ দিন একই ভাবেই কাটাতে হবে পাহাড়বাসীকে৷

এদিন বৈঠকের পর নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘‘পাহাড়ের দলগুলি গোর্খাল্যান্ড ইস্যু তোলে বৈঠকে। দলগুলির প্রতিনিধিরা প্রথমেই এই ইস্যুটি নিয়ে আলোচনা করতে চান। পাহাড়ে শান্তি ফেরাতে সর্বদলই সহমত হয়েছে। পাহাড়ে বনধ তোলার অনুরোধ জানিয়েছি।’’ এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘বৈঠক ইতিবাচক হয়েছে মানেই আলোচনার পথ এগিয়েছে, পাহাড় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, ওরাও সময় নিক। বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য মোর্চা, জিএনএলএফ প্রধানদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’’

এদিন নবান্নের বৈঠকে অংশ নেন পাহাড়ের প্রধান রাজনৈতিক দল গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা , গোর্খা ন্যাশানাল লিবারেশন ফ্রন্ট, জ্যাপ। নবান্নে হাজির বিনয় তামাঙ্গ সহ মোর্চার ৫ কেন্দ্রীয় নেতা। ছিলেন জিএনএলএফ নেতারাও। ছিলেন হরকাবাহাদুর ছেত্রী ও তার জন আন্দোলন পার্টির সদস্যরাও৷ বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আলোচনা ইতিবাচক হয়েছে। কিন্তু, পাহাড়ের মূল দাবি পৃথক রাজ্যের দাবি ও লাগাতার চলতে থাকা বনধ নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা না হওয়ায় বৈঠক আদৌও কি ‘ইতিবাচক’ হয়েছে? প্রশ্ন তুলছেন পর্যবেক্ষদের একাংশ৷