স্টাফ রিপোর্টার, তমলুক: নবনীতা মন্ডল। বছর কুড়ির কলেজ পড়ুয়া পাঁশকুড়ার দক্ষিণ চাঁচিয়াড়া গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয় পাঁশকুড়া বনমালী কলেজের ছাত্রী। তবে শৈশব, কিশোর জীবন সুন্দরভাবে কাটালেও ২০১৫ সালে তার জীবনে এক কঠিন অধ্যায় শুরু হয়। ধরা পড়ে তার লান্স ক্যান্সার হয়েছে।

ফলে আত্মীয়-পরিজনরা সংক্রামক মারণ রোগ মনে করে তার কাছ থেকে দূরে দূরে থাকতে শুরু করে। এমনকি স্থানীয়রাও তাঁর সঙ্গে মেলামেশা বন্ধ করে দেয়। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে হাল ছাড়েনি নবনীতা ও তার পরিবার। নিজের মনের জোর বাড়িয়ে দিনের পর দিন চিকিৎসা পরিষেবা নিতে থাকে সে। টানা দু’বছর লড়াই করে ২০১৭ সালে সে সুস্থ হয়ে ওঠে। এখন তাঁর আর কোনও সমস্যা নেই৷

তবে এখানেই থেমে যায়নি তাঁর লড়াই। অন্যান্য ক্যান্সার আক্রান্তদের পাশে থেকে তাঁদের সুস্থ করার চেষ্টায় ময়না থানা এলাকার নারকেলদার প্রায়স নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সহযোগীতায় জেলার বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে ঘোরে সে৷ কিন্তু কেন? কারণ একটাই, ক্যান্সার আক্রান্তদের পাশে থেকে তাদের সাহস যোগানোর যাত্রা শুরু করেছে সে।

এই প্রসঙ্গে নবনীতা জানিয়েছেন, ‘‘ক্যান্সার রোগকে জয় করে সুস্থ হয়ে ওঠা এবং ক্যান্সার আক্রান্তদের পাশে থেকে তাদের সুস্থ করে তোলার চেষ্টায় আমেরিকার ওয়ার্ল্ড কনফারের অফ লাং ক্যান্সার তাকে সম্মানিত করে। ইন্টারন্যাশনাল এসোসিয়েশন ফর দ্য স্টাডি অফ লাং ক্যান্সার (আইএএসএলসি) নামে কানাডার টরেন্টোতে আয়োজিত ক্যান্সার বিষয়ক কনফারেন্সে সম্প্রতি এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ অক্টোবর সুইজারল্যান্ডের লুগানোতে ইউরোপিয়ান স্কুল অফ অংকলজি এই কাজের জন্য আন্তর্জাতিক পুরস্কার তুলে দিতে চলেছেন তাঁর হাতে৷

আরও পড়ুন: অবশেষে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা ওরফে ‘দিনহাটার ডন নম্বর ওয়ান’

তিনি বলেন, ‘‘এই ধরনের মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেরে খুব ভাল লাগছে। আর যাদের জন্য আমি এই ধরনের কাজের সাহস পেয়েছি তাঁরা হলেন কলকাতা মেডিকেল কলেজের ডাক্তার শ্যামল কুমার সরকার, তমলুকের ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ললিত খাঁডা। এই ভাবে ক্যান্সার আক্রান্ত মানুষদের পাশে থেকে তাদের সুস্থ করে তোলার জন্য আমার কাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই৷’’