কলকাতা:  আরও এক নক্ষত্রপতন। অজানার দেশে পাড়ি দিলেন সাহিত্যিক নবনীতা দেবসেন। পড়ে রইল তাঁর সৃষ্টিসম্ভার– একাধিক বইপত্র। ছোটবেলা থেকেই মেধবী ছাত্রী ছিলেন তিনি। পেয়েছেন বহু গুণীজনের স্নেহ-সান্নিধ্য। তাঁর চলে যাওয়ায় একটা যুগের অবসান হল।

পারিবারিক ভাবেই তিনি পরম সৌভাগ্যবতী। বাবা নরেন্দ্র দেব এবং মা রাধারানী দেবী দু’জনেই কবি। বাবা-মায়ের জীবনযাপনের ছায়া পড়়ে যায় নবনীতার জীবনে। ছোটবেলা থেকেই লেখালিখিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি। কবিতা লিখতে শুরু করেন। শুরু করেন গদ্যচর্চা। এক সময় সাহিত্যই হয়ে ওঠে তাঁর সাধনার মন্ত্র। প্রথমে প্রেসিডেন্সি এবং পরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। আরও পরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগে অধ্যাপনার কাজে যুক্ত হন। ক্রমেই ছাত্রছাত্রীদের কাছে হয়ে ওঠেন– প্রিয় নবনীতাদি!

কবি অলোকরঞ্জন দাশগুপ্তর প্রত্যক্ষ ছাত্রী ছিলেন তিনি। তাঁর প্রথম বই ‘প্রথম প্রত্যয়’ প্রকাশিত হয় ১৯৫৯ সালে। নবনীতা দেবসেনের লেখা একাধিক ভাষায় অনুবাদ হয়। বহু দেশের সাহিত্য উৎসব ও বইমেলায় আমন্ত্রিত হন তিনি। ১৯৮৬ সালে যোগ দেন জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলায়। সেখানে তাঁর কবিতা গুণীজনের কাছে সমাদৃত হয়। পরে অলোকরঞ্জ দাশগুপ্তর অনুবাদে জার্মান ভাষায়় ছড়িয়ে পড়ে সেই কবিতা। বেড়াতে ভালবাসতেন নবনীতা দেবসেন। লিখেছেন প্রচুর ভ্রমণকাহিনী। বাংলা ভ্রমণ সাহিত্যে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। দে’জ পাবলিশিং থেকে প্রকাশিত হয় ভ্রমণ সমগ্র। ছোটদের জন্য লিখেছেন রূপকাথা।

তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘আমি অনুপম’ ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হলে আলোড়ন পড়়ে যায় সাহিত্য মহলে। বাংলা সাহিত্য হারল এক মেধাবী সাহিত্যিককে। নবনীতা দেবসেন পেয়েছিলেন সাহিত্য আকদেমি পুরস্কার-সহ আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্য পুরস্কার। পদ্মশ্রী সম্মান লাভ করেন ২০০০ সালে। তাঁর চলে যাওয়া বাংলা সাহিত্যের ক্ষেত্রে এক অপূরণীয় ক্ষতি।