ফাইল ছবি

কলকাতা: অনলাইনে মদের দোকানের লাইসেন্স বাতিল করল নবান্ন৷ রাজ্যের প্রায় ১০০০ বিলিতি মদের দোকানের লাইসেন্স বাতিল করল আবগারি দফতর৷ তবে যাদের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে তাদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে৷

রাজ্যে যত্রতত্র গজিয়ে ওঠা মদের দোকান বন্ধের পাশাপাশি নিষিদ্ধ করার দাবিতে আন্দোলনে নামে বিরোধীরা৷ তা স্বত্বেও মমতা সরকার মদের দোকানের লাইসেন্স দেওয়ার কথা ঘোষণা করে৷ রীতিমত বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলা হয়, লাইসেন্সের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে৷ তাতে ব্যাপক সাড়াও মিলেছিল৷ কেউ কেউ লাইসেন্স পেয়ে দোকানও খুলে বসেছিলেন৷

আবগারি বিধিতে নতুন মদের দোকান খোলার জন্য লটারির ব্যবস্থা রয়েছে৷ কিন্তু আইন বদলে অনলাইনে মদের দোকানের লাইসেন্স পেতে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়৷ বছর খানেক আগে অনলাইনে আবেদন করে লাইসেন্স পেতে হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছিল৷ জানা গিয়েছে, প্রায় দেড় হাজার আবেদন জমা পড়েছিল৷

আরও পড়ুন – পরিবেশকে দূষণ মুক্ত রাখতে অভিনব উদ্যোগ, আয়োজিত হল গ্রীণ ম্যারাথন

সেখান থেকে বাদ দিয়ে প্রায় ১০০০ লাইসেন্স দেওয়ার জন্য অনুমোদিত হয়৷ আবেদনের সময় ফি বাবদ দিতে হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা৷ তবে যাদের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে তাদেরকে টাকা ফেরত দেবে আবগারি দফতর৷

সূত্রের খবর,এখন পর্যন্ত রাজ্যে ৫ হাজার মদের দোকান রয়েছে। এর মধ্যে ২৫০০ বিলিতি ও দিশি মদের পাশাপাশি ২০০০ বার লাইসেন্স রয়েছে। বাকি ৫০০টি ক্লাব বা হোটেলে মদ পাওয়া যায়৷ সেই সংখ্যা আরও বাড়াতে চেয়েছিল মমতা সরকার৷

রাজ্যে যত্রতত্র গজিয়ে ওঠা মদের দোকান বন্ধের পাশাপাশি নিষিদ্ধ করার দাবিতে জেলা জুড়ে আন্দোলনে নেমেছে বিরোধীরা৷ তাদের দাবি, মদ ও মাদকজাত দ্রব্যের প্রসার যেভাবে বাড়ছে তাতে সমাজ জীবন বিপর্যস্ত। একটা বড় অংশের যুব সমাজ এই নেশার কবলে পড়ে সর্বনাশের দিকে পা বাড়াচ্ছেন। আর অনেক সময় তার ফল ভোগ করতে হচ্ছে মহিলাদের৷ এর ফলে যেমন ধর্ষণ বাড়ছে, তেমনি অজস্র সংসার পথে বসছে বলেও দাবি করেন তাঁরা৷

এই পরিস্থিতিতে আন্দোলনকারীদের-এর পক্ষ থেকে মদের দোকান বন্ধের লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ, অলিতে গলিতে মদের ঠেক বন্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ, লাইসেন্স প্রাপ্ত দোকান থেকে মদ কিনে চা, পান, বিড়ির দোকানে তা বিক্রি বন্ধ রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সহ বিহার, মিজোরামের মতো এরাজ্যেও মদ নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে আসছেন তারা৷

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV