স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: গোপন সূত্রে খবর পেয়ে নাবালিকার বিয়ে রুখলেন বাঁকুড়ার সারেঙ্গার বিডিও অভিষেক চক্রবর্তী। শুক্রবার রাতে সারেঙ্গারই গাংনালা গ্রামেরই এক ষোলো বছর বয়সী স্কুল ছাত্রীর বিয়ে হচ্ছিল ওই গ্রামেরই আঠারো বছর বয়সী যুবকের সঙ্গে। বিডিও অভিষেক চক্রবর্তীর কাছে এই খবর আসতেই বিয়ে বন্ধে উদ্যোগী হন তিনি।

বাঁকুড়ার জঙ্গল মহলের অন্যতম ব্লক সারেঙ্গা। শুক্রবার বিকেলে বিডিও অভিষেক চক্রবর্তীর কাছে খবর আসে স্থানীয় গাংনালা গ্রামের এক নাবালিকার বিয়ে ঠিক হয়েছে তার নিজের গ্রামেই। পাত্রেরও আইনত বিয়ের বয়স হয়নি। ওই নাবালিকা সারেঙ্গা গার্লস হাইস্কুলে একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। পাত্র অনেক দিন আগেই পড়াশুনা ছেড়ে দিয়েছে। এই খবর পাওয়া মাত্রই বিডিও-র নির্দেশে ব্লকের আধিকারিকরা সারেঙ্গা থানার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ওই গ্রামে পৌঁছে যান। খবর পেয়ে কিছু সময়ের মধ্যে পৌঁছে যান বাঁকুড়া জেলা চাইল্ড লাইনের কর্মীরাও। তাঁরা ওই নাবালিকার সঙ্গে আলাদা করে কথা বলার পাশাপাশি, কথা বলেন তার বাবা-মায়েরর সঙ্গেও। মেয়েদের আঠারো বছরের আগে বিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। তার কুফল সম্পর্কে তাদের বোঝান। আর তাদের ঠিক করা পাত্রেরও এখনও আইনত বিয়ের বয়স হয়নি। যা আইনত শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সেকথাও তাদের অবহিত করেন। পরে সারেঙ্গা ব্লকের আধিকারিক, পুলিশ ও চাইল্ড লাইনের কর্মীদের কাছে ওই নাবালিকার বাবা মা বিয়ে বন্ধের মুচলেকা দেন। ছেলে ও মেয়ের আইনত বিয়ের বয়স হলে তবেই বিয়ে দেওয়া বলে তারা জানিয়েছেন।

বিডিও অভিষেক চক্রবর্তী বলেন, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ওই নাবালিকার বিয়ে বন্ধে উদ্যোগী হই। আঠারো বছরের নিচে কোন মেয়েরই বিয়ে দেওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। যেভাবেই হোক সারেঙ্গা ব্লক এলাকায় নাবালিকার বিয়ের সংখ্যা শূন্যতে নামিয়ে আনতে হবে। সামনেই বিয়ের মরশুম। তাই কন্যাশ্রী ক্লাবকে সামনে রেখে ব্লক প্রশাসন, চাইল্ড লাইন ও পুলিশের যৌথ উদ্যোগে গাংনালা গ্রাম সহ ব্লক এলাকার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিকভাবে নাবালিকা বিয়ে বন্ধ বিষয়ে সচেতনতা শিবির করা হবে।