স্টাফ রিপোর্টার, বারাসত: দফতরে ঢুকে সরকারি আধিকারিকদের মারধর৷ কাঠগড়ায় খোদ তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান ও তার অনুগামীরা৷ ঘটনার পর ৪৮ ঘন্টা কেটে গেলেও অভিযুক্তদের কেউ ধরা পরেনি৷ হাসপাতালে শুয়ে শঙ্কিত সন্দেশখালি ২ নম্বর ব্লকের বিডিও কৌশিক ভট্টাচার্য৷ কাজের কোনও নিরাপত্তা নেই৷ আতঙ্কে ভুগছেন রাজ্য সরকারের কর্মীরা৷ এই পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করলেন উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক চৈতালী চক্রবর্তী৷ পর্যাপ্ত নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে৷

জেলা শাসক চৈতালী চক্করবর্তী জানান, ‘‘আতঙ্কের কোনও বিষয় নেই৷ প্রশাসন সরকারি কর্মীদের মারধরের ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে৷ দোষীরা শাস্তি পাবে৷’’ তবে বৃহস্পতিবারের ওই ঘটনায় তদন্তের ক্ষেত্রে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ রয়েছে আক্রান্ত আধিকারিকের৷ শুক্রবারই হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে তাঁর অসন্তোষের কথা জানিয়েছিলেন আক্রান্ত বিডিও৷

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দুপুরে সন্দেশখালির এক পঞ্চায়েত প্রধান-সহ বেশ কয়েকজন তৃণমূল নেতা আলোচনার জন্য সন্দেশখালির ২ নম্বর ব্লকেরর বিডিও কৌশিক ভট্টাচার্যের অফিসে যায়৷ অভিযোগ, আলোচনা চলাকালীন পঞ্চায়েত সদস্যরা হঠাৎই বিডিওকে মারধর শুরু করে৷ অফিসের কর্মীরা বিডিও-কে বাঁচাতে এলে তাঁদেরও বেধড়ক মারধর করা হয়। বিডিও-সহ ৬ জন সরকারি কর্মী আহত হন। ভাঙচুর করা হয় বিডিও অফিসের আসবাবপত্রও।

এখানেই শেষ নয়৷ বচসা, মারামারির প্রমাণ লোপাটের জন্য বিজিও দফতরের সিসিটিভি ক্যামেরাও ভেঙে দেওয়া হয়৷ খুলে দিতে বাধ্য করা হয় ওই ক্যামেরা সংক্রান্ত হার্ড ডিস্কটিও৷ উত্তপ্ত সেই পরিস্থিতির খবর যায় বিডিও দফতরে৷ ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে৷

সূত্রের খবর, লোকসভা ভোটে বিপর্যয় হয়েছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলের৷ দলের ময়না তদন্তে উঠে আসে পঞ্চায়েতের পদাধিকারীদের একাংশের দুর্নীতি ও নিচু তলার কর্মীদের অহংবোধই এই ভারডুবির কারণ৷ সন্দেশখালির ঘটনাতেও বিবাদের মূলে শাসক দলের দুর্নীতি৷ সূত্রের খবর, কিছু দিন ধরে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশের কু-নজরে পড়েছিলেন বিডিও৷ প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা প্রকল্পের ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যাঙ্ক থেকে তুলে নেওয়া হলেও সেই টাকার ঘর পাননি পঞ্চায়েতের গরিব মানুষগুলে। তারই প্রতিবাদ করেছিলেন কৌশইক ভট্টাচার্য৷ তার জেরেই এই হামলা৷

এর আগে পুলিশকে আক্রমণের অভিযোগ উঠেছে শাসক দল তৃণমূলের বিরুদ্ধে৷ এবার উঠল বিডিওকে মারধরের অভিযোগ৷ কর্মরত অবস্থায় সরকারি কর্মী, আধিকারীকদের আক্রমণ দণ্ডনীয় অুরাধ৷ কিন্তু আইকে বুড়ো আঙাল দেখিয়েই চলছে এইসব কাজ৷ ঘটনায় শঙ্কিত বিডিও দফতরের অন্যন্য কর্মীরা৷ তাদের প্রশ্ন যেকোন সময় হতে পারে এই ঘটনা৷ জীবনের নিরাপত্তা কোথায় সরকারি কাজ করতে এসে৷ এপ্রসঙ্গে মুখ খুলতে চাননি বসিরহাটের মহকুমাশাসক সুপ্রীয় দাস৷

পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না দিলে সরকারি কর্মীদের একাংশ আন্দোলনেরও হুমকি দেন৷ তারপরই পদক্ষেপ করেন জেলাশাসক৷ দফায় দফায় বৈঠক করেন সরকারি আধিকারিক ও কর্মীদের সঙ্গে৷